উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ায় তিন দিনের এক ঐতিহাসিক সফরে যাচ্ছেন সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইগনাজিও কাসিস। সফরের প্রথম ধাপে বৃহস্পতি ও শুক্রবার তিনি উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে অবস্থান করবেন, যেখানে সুইস কূটনৈতিক কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক পুনর্বাসনে অংশ নেবেন তিনি। পরবর্তীতে শনিবার তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশে পিয়ংইয়ং ত্যাগ করবেন।
উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে সুইজারল্যান্ডের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিশেলিন কালমি-রে-র সফরের পর এই প্রথম সুইস ফেডারেল কাউন্সিলের কোনো সদস্য উত্তর কোরিয়া সফর করছেন।
করোনা মহামারীর কারণে ২০২০ সালের মার্চে পিয়ংইয়ংয়ে অবস্থিত সুইস কূটনৈতিক মিশনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ চার বছর পর চলতি ২০২৬ সালের ১৯ অক্টোবর থেকে দপ্তরটি পুনরায় তাদের কার্যক্রম শুরু করে। সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উত্তর কোরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ জোরদার এবং রাজনৈতিক আলোচনা উৎসাহিত করতেই এই মিশন পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে। এটি বেইজিংয়ে অবস্থিত সুইস দূতাবাসের অধীনে পরিচালিত হবে।
সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইগনাজিও কাসিস উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো সন-হুই এবং ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়ার কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন। তবে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং-উনের সঙ্গে তাঁর কোনো বৈঠক হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগ প্রধান নিকোলাস বিদে জানান, কয়েক বছরের একাকীত্বের পর উত্তর কোরিয়া ধীরে ধীরে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু করছে। সুইজারল্যান্ড এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাদের উপস্থিতি আবার সুসংহত করতে চায়। তবে কূটনৈতিক আলোচনা চালু রাখলেও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বাধ্যবাধকতা মেনে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখবে বার্ন।
১৯৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধ বিরতি চুক্তির পর থেকেই সুইজারল্যান্ড ৩৮তম সমান্তরাল রেখায় গঠিত নিরপেক্ষ অঞ্চল (ডিএমজেড) পর্যবেক্ষণে ভূমিকা রেখে আসছে। নিউট্রাল নেশনস সুপারভাইজরি কমিশনের অংশ হিসেবে বর্তমানে পানমুনজমে পাঁচজন সুইস সামরিক কর্মকর্তা নিয়োজিত রয়েছেন।
সুইজারল্যান্ড ১৯৭৪ সালে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে এবং ২০০৩ সাল থেকে নিয়মিত রাজনৈতিক সংলাপ চালিয়ে আসছে। এ ছাড়া ১৯৯৭ সালে পিয়ংইয়ংকে সুইস উন্নয়ন সংস্থা একটি দপ্তর খোলে, যা কৃষি ও পানীয় জল সরবরাহে কাজ করার পর ২০২৪ সালে তাদের মানবিক কার্যক্রম সমাপ্ত করে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাসিসের এই সফর কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নতুন কূটনৈতিক দুয়ার উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: সুইসইনফো
হরমুজে মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করলো ইরান
মার্কিন স্পাই ড্রোন হ্যাক করে নামালো ইরান!
ইরানে সপ্তাহব্যাপী হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল