লন্ডনের রাজপথে ফিলিস্তিনের সমর্থনে আয়োজিত বার্ষিক 'আল-কুদস দিবস' এবার ব্রিটিশ প্রশাসনের নজিরবিহীন বাধার মুখে পড়েছে। মিছিলের অনুমতি বাতিল এবং কঠোর বিধিনিষেধের কারণে এবারের সমাবেশটি তার চিরাচরিত জৌলুস হারিয়ে এক প্রতিবাদী অবস্থানে রূপ নেয়।
রমজানের শেষ দিকে প্রতি বছর লন্ডনের রাজপথ ফিলিস্তিনি পতাকায় ছেয়ে গেলেও, এবার দৃশ্যপট ছিল ভিন্ন। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে আটকা পড়ে আল-কুদস দিবসের মিছিল। রাজপথে হাঁটার অনুমতি না মেলায় কয়েকশ বিক্ষোভকারীকে এক জায়গায় ঠায় দাঁড়িয়েই নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেন।

ইসলামিক হিউম্যান রাইটস কমিশন আয়োজিত এই কর্মসূচিতে এবার মানুষের উপস্থিতি ছিল প্রত্যাশার চেয়ে কম। এর পেছনে পুলিশের বিধিনিষেধ আর ধরপাকড়ের ভয়কেই দায়ী করছেন আয়োজকরা। পুলিশের সহকারী কমিশনার আদে আদেলেকান স্বীকার করেছেন, জনসমাগম তাদের ধারণার চেয়ে কম হয়েছে। তাঁর ভাষায়, পুলিশের দেয়া শর্তের কারণে অনেকেই সমাবেশ থেকে দূরে থাকাই শ্রেয় মনে করেছেন।
এবারের আল-কুদস দিবস শুধু গাজা উপত্যকায় চলা ইসরায়েলি অভিযানের প্রতিবাদেই সীমাবদ্ধ ছিল না। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল ও আমেরিকার চলমান যুদ্ধের বিস্তৃতি নিয়েও সরব ছিলেন আন্দোলনকারীরা। বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা ব্যানারে পরিষ্কার লেখা ছিল- ‘হ্যান্ডস অফ ইরান’ (ইরানের ওপর থেকে হাত তোলো)। বক্তারা গাজায় চলা ‘গণহত্যা’ এবং এতে পশ্চিমাদের নিঃশর্ত সমর্থনের তীব্র সমালোচনা করেন।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ জানিয়েছেন, মারাত্মক জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কায় পুলিশ মিছিল নিষিদ্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছিল, যা সরকার অনুমোদন করেছে। সমাবেশের মাঝখান থেকেই অন্তত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রতি সমর্থন জানানো, মারামারি এবং হুমকিমূলক আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এমনকি এক বক্তার দেওয়া স্লোগান নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশের এই ভূমিকাকে সরাসরি ‘গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর আঘাত’ বলে অভিহিত করেছে ইসলামিক হিউম্যান রাইটস কমিশন। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে প্রতিবাদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য মেট্রোপলিটন পুলিশ পরিকল্পিতভাবে এই মিছিল নিষিদ্ধ করেছে।

লন্ডনের প্রাণকেন্দ্রে আয়োজিত এবারের আল-কুদস দিবস ছিল একাধারে প্রতিবাদের সুর এবং অন্যদিকে প্রশাসনের দমনমূলক নীতির এক অস্থির সংমিশ্রণ। মিছিল করতে না দিলেও, দাঁড়িয়ে থাকা বিক্ষোভকারীদের গগনবিদারী স্লোগানই বুঝিয়ে দিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের আগুনের আঁচ এবার লন্ডনের টেমসের পাড়েও বেশ ভালোভাবেই লাগছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, ইমডিল ইস্ট আই
