ট্রাম্প প্রশাসন এমন একটি প্রস্তাব বিবেচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে যেখানে ইরানকে অত্যন্ত সীমিত বা ‘নামমাত্র’ পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা ধরে রাখার অনুমতি দেয়া হতে পারে। তবে শর্ত হলো, পারমাণবিক বোমা তৈরির সব পথ তেহরানকে স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। একজন উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যম 'অ্যাক্সিওস' এই তথ্য জানিয়েছে।
নিউজ সাইটটি উল্লেখ করেছে, একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সামান্য সুযোগ থাকলেও মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, আগামী দিনে ইরান যে প্রস্তাব জমা দিতে যাচ্ছে, তা ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে থাকা কট্টরপন্থী এবং মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সন্তুষ্ট করার মতো উচ্চমানের হতে হবে।
উদ্ধৃতি দিয়ে ওই উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন একটি চুক্তিতে সই করতে প্রস্তুত যা বিষয়বস্তুর দিক থেকে শক্তিশালী হবে এবং যা তিনি নিজ দেশের মানুষের কাছে রাজনৈতিকভাবে তুলে ধরতে পারবেন। ইরানিরা যদি হামলা এড়াতে চায়, তবে তাদের এমন একটি প্রস্তাব দিতে হবে যা আমরা ফিরিয়ে দিতে পারব না। তারা বারবার সুযোগ হাতছাড়া করছে। এখন তারা যদি কোনো টালবাহানা করে, তবে আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাবে।

প্রতিবেদনে ট্রাম্পের অপর একজন সিনিয়র উপদেষ্টার বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখনো হামলার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তিনি বলেন, আমি জানি তিনি এখনো সিদ্ধান্ত নেননি, কারণ আমরা এখনো হামলা শুরু করিনি। তিনি হয়তো কখনোই হামলা করবেন না। আবার কাল সকালে ঘুম থেকে উঠে বলতে পারেন, যথেষ্ট হয়েছে, এবার শুরু করো।
ওই উপদেষ্টার মতে, ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ট্রাম্পের সামনে একগুচ্ছ সামরিক বিকল্প তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে বলেন, প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য আলাদা পরিকল্পনা তৈরি আছে। এমনকি একটি পরিকল্পনা এমনও আছে যা সরাসরি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তাঁর পুত্র মোজতবা এবং মোল্লাতন্ত্রকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সক্ষম। তবে প্রেসিডেন্ট শেষ পর্যন্ত কোনটি বেছে নেবেন, তা কেউ জানে না। এমনকি আমি মনে করি, তিনি নিজেও এখনো তা নিশ্চিত নন।
অন্য একজন উপদেষ্টা জানান, ট্রাম্প তাঁর সব বিকল্প খোলা রেখেছেন। তিনি যেকোনো মুহূর্তে হামলার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
ইরানকে যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিয়ে নতুন ঝুঁকিতে ট্রাম্প
শুল্ক নিয়ে ট্রাম্পের একগুঁয়েমি, আদালতে হারলেও ছাড়ছেন না ময়দান