যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্বঘোষিত বৈশ্বিক শুল্ক নীতিকে ‘আইনবহির্ভূত’ বলে রায় দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি এক নতুন নির্বাহী আদেশে সই করেছেন, যার ফলে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হতে যাচ্ছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে জানায়, ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা তার ক্ষমতার অপব্যবহার। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই আইন প্রেসিডেন্টকে সরাসরি ‘শুল্ক’ আরোপের ক্ষমতা দেয় না।
আদালতের এই রায়ে ট্রাম্পের আগের শুল্ক নীতি বাতিল হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে কিছুটা স্বস্তি দেখা দিয়েছিলো। কিন্তু সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। রায়ের পরপরই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান ট্রাম্প। তিনি একে দেশের অর্থনীতির ওপর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ১২২’ ব্যবহার করে নতুন আদেশ জারি করেন।
নতুন এই নির্দেশনার ফলে সাময়িকভাবে ১৫০ দিনের জন্য ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে। ট্রাম্পের দাবি, আমেরিকার বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এবং দরকষাকষির ক্ষমতা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ অপরিহার্য। এর ফলে ভারত, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো অংশীদারদের ওপর শুল্কের বোঝা আবার ফিরে আসছে, যারা এতোদিন বিশেষ ছাড় পাওয়ার আশা করছিলো।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই নতুন আদেশের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আমদানি করা পণ্যের দাম বাড়বে। যদিও আগের ১৬.৯ শতাংশ শুল্কের তুলনায় বর্তমান ১৫.৪ শতাংশ শুল্ক কিছুটা কম মনে হতে পারে, কিন্তু এর চূড়ান্ত বোঝা মার্কিন সাধারণ ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের ওপরেই পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম এবং গাড়ির ওপর আগে থেকে আরোপিত শুল্ক (সেকশন ২৩২-এর আওতায়) আদালতের এই রায়ের ফলে প্রভাবিত হবে না এবং তা বহাল থাকবে। এছাড়া চীনের ওপর আরোপিত উচ্চ হারের শুল্কও অপরিবর্তিত থাকছে।
সামনে নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এর আগে নিজ সমর্থকদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং চীনের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে ট্রাম্প এই কঠোর অবস্থান বজায় রাখছেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। খুব শিগগিরই তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন, যেখানে এই শুল্ক নীতি বড়ো আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।
পুরো বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। বিরোধীরা মনে করছেন, বারবার আদালতের রায় এড়িয়ে নতুন নতুন পথে শুল্ক আরোপ করা আইনের শাসনের প্রতি অশ্রদ্ধা। অন্যদিকে, ট্রাম্পের অনুসারীরা একে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির জয় হিসেবে দেখছেন।
