ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিতিশীলতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং জায়নবাদী শাসনের (ইসরাইল) বৈরী পদক্ষেপকে প্রধান কারণ হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন। একইসঙ্গে তিনি আগ্রাসন রুখে দিতে এবং দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় ইরানের দৃঢ় সংকল্পের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। খবর তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
রোববার রাতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ’র সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে পেজেশকিয়ান ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর ‘অবৈধ আগ্রাসী যুদ্ধের’ তীব্র নিন্দা জানান।
তিনি ইরানের বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অবিরাম হামলার কঠোর সমালোচনা করেন। পেজেশকিয়ান জানান, ইরানের 'আবু মুসা' এবং 'খার্গ' দ্বীপপুঞ্জ বর্তমানে ভয়াবহ আক্রমণের শিকার হচ্ছে। তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, ইরানের এসব দ্বীপে সাম্প্রতিক হামলাগুলো পারস্য উপসাগরীয় বেশ কয়েকটি দেশের মাটি ব্যবহার করে চালানো হয়েছে।
ওই দেশগুলোকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ইরানকে আক্রমণ করার জন্য নিজেদের ভূখণ্ড ও সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করতে দেওয়া আন্তর্জাতিক আইন এবং প্রতিবেশীসুলভ আচরণের পরিপন্থী।
পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানি জাতি, সরকার এবং সশস্ত্র বাহিনী কখনোই উত্তেজনা বা সংঘাত চায়নি। তবে জনগণের সমর্থন এবং জাতীয় শক্তির ওপর ভিত্তি করে আগ্রাসনকারীদের মোকাবিলা করতে এবং দেশের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় আমরা বিন্দুমাত্র দ্বিধা করব না।
তিনি আরও যোগ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার মূলে রয়েছে জায়নবাদী শাসনের আগ্রাসন, গাজা ও লেবাননে গণহত্যা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইরানের ওপর দুই-দুটি যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা।
পাশাপাশি, এই অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি অপরাধের সমর্থনে বেশ কিছু ইউরোপীয় দেশের ধ্বংসাত্মক অবস্থানেরও সমালোচনা করেন তিনি। ইউরোপকে আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি ও আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান ইরানি প্রেসিডেন্ট।
অন্যদিকে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতি এবং হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরাইলি জান্তার সংঘর্ষ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উত্তেজনা প্রশমন এবং যুদ্ধ বন্ধের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
আলাপকালে দুই প্রেসিডেন্ট কনসুলার বিষয়ক বিভিন্ন দিক, বিশেষ করে ইরান ও ফ্রান্সে বন্দী থাকা নাগরিকদের বিষয়েও আলোচনা করেন।
