মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হওয়া উত্তেজনার মাঝে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান দ্বন্দ্বে ওয়াশিংটনকে সমর্থন দিলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসমাইল সাঘাব এসফাহানি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবফ পৃথক বার্তায় এই হুঁশিয়ারি দেন।
ইরানের পাল্টা আঘাতের অঙ্ক: ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসমাইল সাঘাব এসফাহানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে জানান, হরমুজ প্রণালীতে চলমান অবরোধের মাঝে যদি ইরানের কোনো অবকাঠামো বা তেলকূপ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়, তবে তার জবাব হবে চারগুণ। তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমাদের গণিত করার পদ্ধতি আলাদা। আমাদের একটি তেলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আক্রমণকারীকে সহায়তাকারী দেশগুলোর চারটি তেলকূপ ধ্বংস করা হবে। এই বার্তার মাধ্যমে তিনি মূলত যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দেওয়া প্রতিবেশী দেশগুলোকেই লক্ষ্য করেছেন।
ট্রাম্পের চাপ ও অর্থনৈতিক সংকট: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, মার্কিন চাপের মুখে ইরান আর্থিকভাবে ভেঙে পড়ছে। ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যালে প্ল্যাটফর্মে লেখেন, ইরান বর্তমানে প্রতিদিন ৫০ কোটি ডলার লোকসান গুনছে এবং অর্থের অভাবে তাদের সেনাবাহিনী ও পুলিশ বেতন পাচ্ছে না। ট্রাম্পের মতে, অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ইরানের তেল পাইপলাইনগুলো কয়েক দিনের মধ্যে অকেজো হয়ে পড়বে। ওয়াশিংটনের এই 'চাপ সৃষ্টি'র কৌশলটি মূলত ইরানের জ্বালানি খাতের ওপর ভিত্তি করেই এগোচ্ছে।
গালিবফের তুরুপের তাস ও মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: ট্রাম্পের এই হুমকির জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবফ একটি গাণিতিক সমীকরণের মাধ্যমে ইরানের শক্তি প্রদর্শন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরানের কাছে জোগান বা 'সাপ্লাই কার্ড' রয়েছে, যার মাধ্যমে তারা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত করতে পারে। তিনি হরমুজ প্রণালীর পাশাপাশি বাবেল মান্দেব প্রণালী এবং বিভিন্ন পাইপলাইন ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা এখনো ইরান পুরোপুরি ব্যবহার করেনি।
গালিবফ আরও মনে করিয়ে দেন, সামনেই গ্রীষ্মকাল যখন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির চাহিদা তুঙ্গে থাকে। যদি এই সময়েও হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকে, তবে আমেরিকায় গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে জ্বালানির এই অগ্নিমূল্য ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, যা মার্কিন রাজনীতিতে 'ব্লু ওয়েভ' বা ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পথ প্রশস্ত করবে।
সার্বিকভাবে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের এই বাকযুদ্ধ এখন কেবল সামরিক হুমকির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং আসন্ন মার্কিন নির্বাচনের সমীকরণেও বড় প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ইরানের এই আগাম হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে দফরফায় তেহরানের কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ
বিশ্ব জ্বালানি বাজার আমেরিকা নয়, ইরানের হাতেই আছে: গালিবাফ