যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ এবং ইরানের তেল শিল্প নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের হুঁশিয়ারিকে রীতিমতো ধুয়ে দিলেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবফ। ওয়াশিংটনের রণকৌশলকে ‘আবর্জনা’ আখ্যা দিয়ে. বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক তপ্ত বার্তায় মার্কিন প্রশাসনকে একহাত নেয়ার পাশাপাশি বিদ্রূপও করেছেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত তিন দিন আগে, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন নৌ-অবরোধের চাপে ইরানের তেল অবকাঠামোগুলো তিন দিনের মধ্যে ‘বিস্ফোরিত’ হতে পারে। ট্রাম্পের এই হুমকির সুরেই সুর মিলিয়ে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক্সে লেখেন, অবরোধের কারণে ইরানের তেল উৎপাদন ধসে পড়ছে এবং খুব শিগগিরই সে দেশে জ্বালানি সংকট শুরু হবে।
ট্রাম্পের দেওয়া সেই তিন দিনের সময়সীমা পার হওয়ার পর বুধবার স্পিকার গালিবফ বিদ্রূপ করে লেখেন, তিন দিন তো পার হলো, একটি তেলকূপও তো ফাটল না! আমরা চাইলে এই সময়সীমা ৩০ দিন পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারি এবং এখান থেকে সেই কূপগুলোর লাইভ স্ট্রিম (সরাসরি সম্প্রচার) দেখাতে পারি।
গালিবফ তাঁর বার্তায় মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে লক্ষ্য করে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন বেসেন্টের মতো লোকেদের কাছ থেকে 'বাজে পরামর্শ' পাচ্ছে। তাঁর মতে, এই অবরোধ তত্ত্বের কারণেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১২০ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে এবং খুব দ্রুতই তা ১৪০ ডলার স্পর্শ করবে। গালিবফের ভাষায়, সমস্যাটা শুধু তত্ত্বে নয়, সমস্যাটা হলো তাদের মানসিকতায়।
ইরানি স্পিকারের এই আক্রমণাত্মক বার্তা এটিই স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপকে তেহরান কেবল অস্বীকারই করছে না, বরং তা নিয়ে প্রকাশ্য উপহাস করতেও ছাড়ছে না। একদিকে যখন ট্রাম্প ও বেসেন্ট ইরানের তেল উৎপাদন ধসে পড়ার স্বপ্ন দেখছেন, তখন কলিবফ ইঙ্গিত দিলেন যে এই উত্তেজনার ফলে তেলের দাম বেড়ে উল্টো পশ্চিমা অর্থনীতিই চাপে পড়তে যাচ্ছে।
