হরমুজ প্রণালীতে ইরানের প্রভাব খর্ব করতে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে বিশাল এক নৌ-অভিযান শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক জাহাজে কোনো ধরনের হামলা হলে ইরানকে ‘প্রবল ও বিধ্বংসী অগ্নিশক্তির’ মুখোমুখি হতে হবে।
প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বলেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর ন যুক্তরাষ্ট্র একটি শক্তিশালী আকাশ ও সমুদ্র প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করেছে। তিনি একে বিশ্বের জন্য আমেরিকার পক্ষ থেকে একটি ‘উপহার’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমরা যুদ্ধ খুঁজছি না, তবে হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের অবৈধ নিয়ন্ত্রণ আমরা ভেঙে দেব। তারা দাবি করে তারা এই প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু আসলে তা নয়। তিনি আরও জানান, এই অভিযানের জন্য ইরানের জলসীমা বা আকাশসীমায় প্রবেশের প্রয়োজন হবে না।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) জেনারেল কেইন জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের নির্দেশে শুরু হওয়া এই অভিযানে ইতিমধ্যে ইরানের বেশ কিছু হামলা নসাৎ করে দেওয়া হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যমতে, ইরান এ পর্যন্ত ৯ বার বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালিয়েছে এবং দুটি কন্টেইনার জাহাজ জব্দ করেছে।
এছাড়া মার্কিন বাহিনীর ওপর অন্তত ১০ বার হামলা চালানো হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ইরান ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ তেল টার্মিনালে হামলা চালালেও মার্কিন বাহিনী তা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। ইরানের ছোঁড়া ক্রুজ মিসাইল এবং ড্রোনগুলো মার্কিন নৌবাহিনীর এমএইচ-৬০ এবং এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে।

তিনি জানান, হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ অংশে একটি ‘উন্নত নিরাপত্তা অঞ্চল’ তৈরি করেছে সেন্টকম। এই অঞ্চলের নিরাপত্তায় যা যা মোতায়েন রয়েছে ১০০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান এবং চালকবিহীন ড্রোন, যা ২৪ ঘণ্টা আকাশ পাহারা দিচ্ছে। ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশন এই পুরো কার্যক্রম সমন্বয় করছে।
১৫,০০০-এরও বেশি মার্কিন সেনাসদস্য এই বিশেষ জোনে মোতায়েন রয়েছেন। দ্রুতগামী বোট এবং ড্রোন বিধ্বংসী ব্যবস্থা রয়েছে। জেনারেল কেইন বলেন, এই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো সমুদ্র এবং আকাশে মার্কিন সামরিক শক্তির উপস্থিতি সরাসরি অনুভব করতে পারবে।

মার্কিন সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, তারা বর্তমানে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করছে, তবে একে দুর্বলতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। যদি পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়, তবে তারা ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করতে পুরোপুরি প্রস্তুত। আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল নিরাপদ রাখতে এবং ইরানের আগ্রাসন রুখতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ তার কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
