হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি এবং কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনকে নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দাবি করেছেন, এই অঞ্চলে শক্তির একটি ‘নতুন সমীকরণ’ তৈরি হচ্ছে, যা আমেরিকার জন্য সহ্য করা অসম্ভব হয়ে উঠবে।
গালিবাফ তার বার্তায় উল্লেখ করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং অবরোধ আরোপের মাধ্যমে হরমোজ প্রণালীর জ্বালানি ট্রানজিট ও জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে তুলেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন এই ‘অশুভ তৎপরতা’ খুব শিগগিরই হ্রাস পাবে।

তিনি আরও যোগ করেন, আমরা খুব ভালো করেই জানি যে বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়া আমেরিকার জন্য অসহনীয় হয়ে উঠছে। অথচ আমরা তো এখনো আমাদের অভিযান শুরুই করিনি।
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) রাজনৈতিক বিষয়ক উপ-প্রধান জেনারেল ইয়াদুল্লাহ জাভানি জানিয়েছেন , ইরানের বিরুদ্ধে ৪০ দিনের আগ্রাসনের পরও আমেরিকা হরমুজ প্রণালী নিয়ে তার লক্ষ্য অর্জনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, ট্রাম্পের বর্তমান প্রধান সমস্যা হলো প্রণালীটি পুনরায় উন্মুক্ত করা। জাভানি স্পষ্ট করে দেন, ট্রাম্পের পক্ষে কোনোভাবেই পরিস্থিতিকে ২৮ ফেব্রুয়ারির আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। তার মতে, আমেরিকা তাদের সব শক্তি নিয়োগ করলেও শেষ পর্যন্ত ইরানের কাছে পরাজিত হবে।

গত সোমবার হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায় যখন ইরানি নৌবাহিনী মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে মিসাইল ও ড্রোন নিক্ষেপ করে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও মার্কিন জাহাজগুলো তাদের পানিসীমার কাছাকাছি চলে আসায় তারা ক্রুজ মিসাইল এবং রকেট ছুড়তে বাধ্য হয়েছে। আইআরজিসি বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে এবং নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মহড়ার মাধ্যমে তাদের সক্ষমতা প্রদর্শন করছে।
সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, হরমোজ প্রণালী দিয়ে বর্তমানে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করছে না। ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের ওপর তাদের সার্বভৌম অধিকার জোরালোভাবে দাবি করছে। মার্কিন বাহিনীর ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতাকে ইরান ‘দুঃসাহসিকতা’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো ছাড় দেয়া হবে না। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক রাজনীতি এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
তথ্যসূত্র” প্রেস টিভি ও তাসনিম নিউজ
