মধ্যপ্রাচ্যের আকাশছোঁয়া উত্তেজনার মাঝেই এক অভাবনীয় ও ইতিবাচক কূটনৈতিক অগ্রগতির বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সব জটিলতা কাটিয়ে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের সাথে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক চুক্তি সই হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
ট্রাম্পের দাবি, লেবানন সীমান্তে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর রক্তক্ষয়ী সংঘাতকে ঘিরে যে তীব্র কূটনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে আলোচনা এখন চূড়ান্ত রূপ নিতে যাচ্ছে।
গত সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের প্রধান ওয়াশিংটন প্রতিনিধি জোনাথন কার্লকে দেওয়া এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট অকপটে স্বীকার করেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান পরোক্ষ আলোচনায় সম্প্রতি কিছু বড় বাধা তৈরি হয়েছিল। লেবাননে ইসরাইলের অব্যাহত সামরিক অভিযান এবং বেসামরিক নাগরিক হত্যার ফলে ইরান তীব্র অসন্তোষ জানিয়ে আলোচনা বর্জনের হুমকি দেয়, যা ছিল এই চুক্তির প্রধান প্রতিবন্ধকতা। তবে দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সেই সংকট সামাল দেয়া সম্ভব হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থামাতে পর্দার আড়ালে নিজের সক্রিয় ও মারমুখী ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প জানান, তিনি নিজেই সরাসরি হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে রকেট হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও কড়া ভাষায় যোগাযোগ করে লেবাননে সামরিক অভিযান ও বৈরুতে বোমাবর্ষণের পরিকল্পনা থামানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, তাঁর এই নজিরবিহীন মধ্যস্থতা ও চাপের পর উভয় পক্ষই সংঘাত কমাতে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে, যা তেহরানের সাথে সম্ভাব্য চুক্তির পথকে পুরোপুরি সুগম করে তুলেছে।
দীর্ঘদিনের বৈরিতা ভুলে ইরানের মতো একটি পরমাণু সমৃদ্ধ আঞ্চলিক শক্তির সাথে সমঝোতায় আসা যে মোটেও সহজ নয়, তা মনে করিয়ে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, এমন একটি চুক্তি করা উভয় পক্ষের জন্যই অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তবে আমরা ধীরে ধীরে আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের দিকে এগোচ্ছি।

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্ব বাণিজ্যের কৌশলগতভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় সম্পূর্ণ খুলে দেয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
হরমুজ প্রণালী চালুর নির্দিষ্ট সময়সীমা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সমঝোতা হয়ে যাবে। যদিও এখনও কিছু ছোটখাটো ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা বাকি রয়েছে।
সাক্ষাৎকারের শেষ পর্যায়ে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ইরানের সাথে সম্ভাব্য এই শান্তি চুক্তি যেকোনো সামরিক বিজয়ের চেয়েও বিশ্ব ইতিহাসে অনেক বড় ও যুগান্তকারী অর্জন হিসেবে বিবেচিত হবে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই বরফ গলার খবর স্বাভাবিকভাবেই এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বিশ্ব অর্থনীতিতে এক নতুন স্বস্তির সুবাতাস বইয়ে দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: এবিসি নিউজ
