যুক্তরাষ্ট্র ইসলামাবাদে হওয়া সমঝোতা (এমওইউ) লঙ্ঘনের পর ইরানের চালানো নাসর-২ অভিযানে দুই শতাধিক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি একান্ত সাক্ষাৎকারে তাসনিম নিউজকে বলেন, মার্কিন কর্তৃপক্ষ হতাহতের যে সংখ্যা প্রকাশ করেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তার দাবি, নাসর-২ অভিযানে ২০০ জনের বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আহতের সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি।

তাসনিম নিউজের বরাতে রোববার পার্সটুডে জানায়, মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সময় আইআরজিসি আটটি সেনা অবস্থানে আঘাত হানে। এর মধ্যে একটি ঘাঁটির ২০টি সামরিক শেড সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেন মোহেব্বি।
আইআরজিসির মুখপাত্র আরও বলেন, মার্কিন জনগণ যেন তাদের সামরিক কমান্ডারদের প্রকাশ করা তথ্য বিশ্বাস করে বিভ্রান্ত না হন।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার যদি সাংবাদিকদের হামলাস্থল পরিদর্শনের সুযোগ দেয়, তাহলে সেখানে গিয়ে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণ করা সম্ভব হবে।
যদিও ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত আইআরজিসির দুই শতাধিক সেনা নিহতের দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

এর আগে গেলও সপ্তাহে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, চলমান সংঘাতে আহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা এরইমধ্যে ৫০০ ছাড়িয়েছে। তবে পেন্টাগনের আনুষ্ঠানিক তথ্যভাণ্ডারে হতাহতের সংখ্যা এখনও কম দেখানো হচ্ছে।
ওই কর্মকর্তার দাবি, এই পার্থক্যের অর্থ তথ্য গোপন করা নয়। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে হতাহত সেনাদের তথ্য সংগ্রহ, চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি যাচাই এবং কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে যুক্ত করতে কিছুটা সময় লাগে। ফলে আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান হালনাগাদ হতে বিলম্ব হয়।
এদিকে সংঘাত পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের হিসাবে, সামরিক অভিযান, অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গোলাবারুদ ব্যবহার এবং অন্যান্য লজিস্টিক কার্যক্রম মিলিয়ে এ পর্যন্ত ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে সেনাদের প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং কৌশলগত স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত প্রকাশ করা হলে ওয়াশিংটনের জন্য উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত চাপ তৈরি হতে পারে। এ কারণেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন ও সংবাদ সেন্সরশিপের অভিযোগ করে আসছেন।
অনিয়ন্ত্রিত দাবানলের তান্ডবে নরক দেখছে ফ্রান্স-স্পেন
পশ্চিম তীরে ইহুদিদের তাণ্ডব, দুই মসজিদে আগুন