বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে দেশকে 'অদম্য লড়াইয়ের মনোভাব' প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। একই সাথে ১৯৮৯ সালের ঐতিহাসিক তিয়েনআনমেন স্কয়ারের গণতন্ত্রকামী আন্দোলন দমন করার তৎকালীন সিদ্ধান্তকে সঠিক অভিহিত করে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির প্রশংসা করেছেন তিনি।
চীনের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াং জেমিনের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শি জিনপিং এসব কথা বলেন। উল্লেখ্য, ১৯৯৩ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত চীনের নেতৃত্ব দেওয়া জিয়াং জেমিন ২০২২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দৃঢ় সংকল্প: হাজার হাজার কর্মকর্তা ও প্রতিনিধির উপস্থিতিতে দেওয়া ৪৫ মিনিটের এই ভাষণে শি জিনপিং চীনকে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরে বলেন, সামনের দিনগুলোতে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে প্রস্তুত বেইজিং।
তিনি বলেন, অদম্য লড়াইয়ের মনোভাব ও অসাধারণ সামর্থ্য নিয়ে আমরা যেকোনো বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করব- তা সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ হোক কিংবা প্রবল ঘূর্ণিঝড়ই হোক না কেন। জাতীয় সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং উন্নয়ন স্বার্থ রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানটির তাৎপর্য তুলে ধরে চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, পলিটব্যুরোর স্থায়ী কমিটির সাত সদস্যসহ অবসরপ্রাপ্ত শীর্ষ দলীয় নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

তিয়েনআনমেন আন্দোলনের ঐতিহাসিক ভূমিকা: ভাষণে শি জিনপিং সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াং জেমিনের অবদানের কথা স্মরণ করতে গিয়ে ১৯৮৯ সালের আন্দোলন দমনে তাঁর ভূমিকার বিশেষ প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ১৯৮৯ সালের বসন্ত ও গ্রীষ্মের মাঝামাঝি সময়ে চীন এক মারাত্মক রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল। সেই সময় কমরেড জিয়াং জেমিন কেন্দ্রীয় কমিটির সঠিক সিদ্ধান্তগুলো দৃঢ়ভাবে সমর্থন ও বাস্তবায়ন করেছিলেন এবং সাংহাইয়ে কার্যকরভাবে স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছিলেন।
১৯৮৯ সালে কমিউনিস্ট পার্টির উদারপন্থী নেতা হু ইয়াওবাংয়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তিয়েনআনমেন স্কয়ারে ছাত্র-জনতার গণতন্ত্রকামী আন্দোলন শুরু হয়। পরবর্তীতে ৪ জুন চীনা সেনাবাহিনী ট্যাঙ্ক ও সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে এই আন্দোলন নৃশংসভাবে দমন করে। এই ঘটনার পরপরই জিয়াং জেমিন পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হন এবং পরবর্তীতে চীনের শীর্ষ নেতায় পরিণত হন।

অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও বর্তমান প্রেক্ষাপট: জিয়াং জেমিনের শাসনামলেই চীন ২০০১ সালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) যোগ দেয়, যা দেশটির অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক বিপ্লবের সূচনা করেছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য যুদ্ধ ও ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
শি জিনপিং তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন, অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক গতি কিছুটা শ্লথ হলেও চীনের জনগণের জীবনযাত্রার মান ক্রমাগত উন্নত হচ্ছে। চীনা জাতির পুনর্জাগরণের স্বপ্ন বাস্তবায়নের দিকে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
