ইসরাইলের সাথে যৌথভাবে শুরু করা ইরান সংঘাতের ছয় মাস পার হতে চললেও উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নতুন ও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। সম্প্রতি এক সোশাল মিডিয়া বার্তায় ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যে, ইরানকে যেকোনো ধরনের আর্থিক বা বাণিজ্যিক সহায়তা দেবে এমন যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে অভূতপূর্ব আকারের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ আরোপ করা হবে।
ট্রাম্প তাঁর বার্তায় স্পষ্ট করে জানান, যেকোনো দেশ যদি তাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থাকে ইরানের কোনো প্রকার সহায়তায় ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তবে সেই দেশকেও মারাত্মক অর্থনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। পূর্বে প্রায় পাঁচ পঞ্চমাংশ বা ২০ শতাংশ বিশ্ব অপরিশোধিত তেল এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হতো। এপ্রিল ও জুনে দু'বার যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করা, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করা এবং তেহরানের ওপর আঞ্চলিক প্রভাব কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও তা এখনও অর্জিত হয়নি।

ইরান ও চীনের প্রতিক্রিয়া: মার্কিন হুমকির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট ও ঋণের বোঝা থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরানোর একটি প্রচেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
আরাগচি সামাজিক মাধ্যমে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ বৈশ্বিক অর্থনীতি ও দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের জানিয়েছেন, সামরিক চাপ বা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তেহরানের মনোবল ভাঙা সম্ভব নয় এবং তারা আলোচনা প্রস্তুত থাকলেও কোনো আত্মসমর্পণ মানবে না।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি চীনও পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছে। চীন বর্তমানে ইরানের ৮০ শতাংশেরও বেশি রপ্তানিকৃত তেলের ক্রেতা। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানান, নিষেধাজ্ঞা বা অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ কোনো সমাধান আনতে পারে না; রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যাটির সমাধান করা উচিত।

আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া ও কূটনৈতিক অবস্থান: উত্তেজনাকর এই পরিস্থিতিতে আরব আমিরাত ইতোমধ্যে ইরানের সাথে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। যদিও সাবেক দুই পক্ষ একাধিকবার মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছে, তবে ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক অবস্থান মিত্রদেশগুলোর কূটনীতিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে। ট্রাম্প ইরানের সাথে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করলেও তাঁর বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার কূটনৈতিক আলাপের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি। সার্বিকভাবে, ওয়াশিংটনের এই নতুন অর্থনৈতিক যুদ্ধের ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও ঘনীভূত করে তুলছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
