চেন্নাইয়ের এক স্নিগ্ধ শনিবারের বিকেল দেখল এক অনবদ্য রাজনৈতিক রসায়ন এবং সৌহার্দ্যের বিরল দৃশ্য। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং তামিলাগা ভেট্রি কাজাঘম (টিভিকে)-এর সভাপতি তথা তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি যোসেফ বিজয়ের মধ্যকার এই সাক্ষাৎ কেবল আনুষ্ঠানিক কোনো রাজনৈতিক বৈঠকেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা গড়ায় এক ঘরোয়া ও প্রাণবন্ত কফি আড্ডায়।
শনিবার চেন্নাইয়ের উপকণ্ঠে অবস্থিত নীলানকারাইয়ে বিজয়ের অভিজাত বাসভবনে পৌঁছান রাহুল গান্ধী। সেখানে হাসিমুখে কংগ্রেস নেতাকে অভ্যর্থনা জানান মুখ্যমন্ত্রী বিজয়।
দীর্ঘ প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই বৈঠকে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তবে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের সেই গণ্ডি পেরিয়ে দুই নেতার খোলামেলা মেলামেশা এবং সাবলীল সখ্যতা বিশেষভাবে নজর কাড়ে সংবাদমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের।

বৈঠক শেষে দুই নেতা রওনা দেন স্থানীয় একটি ক্যাফের দিকে। কেপাচিনো কফি, তিরামিসু কেক এবং কুকিজের সঙ্গে চলতে থাকে রাজনীতির নিখাদ আলোচনা।
আচমকা চেন্নাইয়ের এক ব্যস্ত ক্যাফেতে দেশের অন্যতম শীর্ষ বিরোধী নেতা এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে এক সঙ্গে কফি কাপে চুমুক দিতে দেখে ভিড় জমায় উৎসুক জনতা। মুহূর্তেই সেই পরিবেশ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে খোশগল্পে মেতে ওঠেন রাহুল ও বিজয়। এমনকি অনেক অনুরাগী এই বিশেষ মুহূর্তটিকে ক্যামেরা বন্দি করতে সেলফি তোলার সুযোগও হাতছাড়া করেননি।
ক্যাফে পর্ব শেষে রাহুল গান্ধী শহরের একটি হোটেলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। মূলত তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার বিশেষ কর্মসূচি 'ছাত্রোঁ কি গূঞ্জ'-এ যোগ দিতেই চেন্নাইতে আগমন রাহুলের। আয়োজকদের মতে, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য ওয়েবসাইট ও কিউআর কোডের মাধ্যমে নাম নিবন্ধন করেছেন লক্ষাধিক শিক্ষার্থী।

উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় রাজ্যে এক ত্রিশঙ্কু পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। এরপরই তামিলনাড়ুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়ে ডিএমকে-এর সঙ্গে পুরোনো জোট ত্যাগ করে বিজয়ের দল টিভিরেকে সমর্থন জানায় কংগ্রেস। এই নতুন রাজনৈতিক চুক্তির হাত ধরেই গঠিত হয় বর্তমান সরকার।
শনিবারের এই হাই-প্রোফাইল সাক্ষাৎ প্রমাণ করল যে, তামিলনাড়ুর এই নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় কেবল নীতিগত বা নির্বাচনী সমঝোতাই নয়, বরং দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ব্যক্তিগত পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও বিশ্বাসও ভীষণভাবে দৃঢ় হচ্ছে। উষ্ণ অভ্যর্থনা, ক্যাফে আড্ডা আর সাধারণ মানুষের ভিড়ে হাসিমুখের এই মুহূর্তগুলো আগামী দিনে দক্ষিণের রাজনীতিতে এক গভীর ছাপ ফেলবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
