মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একতরফা ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভের একটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ওয়ারশতে এক সম্মেলনে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া সত্ত্বেও মস্কো তা সরাসরি লঙ্ঘন করেছে। একই সাথে রাশিয়াকে এই চুক্তি মেনে চলতে বাধ্য করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আগামী মাসের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে দেশে বিশ্ববাজারে জ্বালানির ঊর্ধ্বমুখী দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে ইউক্রেনকে রুশ তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করতে তীব্র চাপ সৃষ্টি করছেন ট্রাম্প। এমনকি কিয়েভ ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে কোনো রূপ আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ করে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কেনার চুক্তির কথা ঘোষণা করে পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেন তিনি। তবে জেলেনস্কি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ট্রাম্পের এই যুদ্ধবিরতির কথা তিনি গণমাধ্যম মারফত জানতে পেরেছেন এবং ওয়াশিংটনের কাছ থেকে এখনো চুক্তির বিস্তারিত শর্তাবলীর জন্য অপেক্ষা করছেন।
জেলেনস্কি বলেন, যদি আমেরিকানরা নিশ্চিত করে, রাশিয়া এটি মেনে চলবে, তবেই যুদ্ধবিরতি কাজ করতে পারে এবং যুদ্ধ সমাপ্তির দিকে বড় পদক্ষেপ হতে পারে। তবে, কিয়েভ সতর্ক করে জানিয়েছে, ইউক্রেনকে একতরফাভাবে রুশ শোধনাগারে হামলা বন্ধ করতে বাধ্য করা হলে রাশিয়া বাড়তি সুবিধা পেয়ে যাবে। ইউক্রেন রাতভর কোনো রুশ শোধনাগারে হামলা চালায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইউক্রেন আক্রমণ স্থগিত রাখতে রাজি হবে শুধু তখনই, যখন রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা পুরোপুরি বন্ধ করবে।

এদিকে ট্রাম্পের একতরফা ঘোষণায় ইউক্রেনের পাশাপাশি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। লুক্সেমবার্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইইউ-এর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস রাশিয়ার ওপর মার্কিন চাপ বজায় রাখার আহ্বান জানান। একই সাথে রাশিয়ার সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্স, বিশেষ করে ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শৃঙ্খলকে লক্ষ্য করে নতুন প্রায় ১,৬০০টি অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন করেছে ইইউ। অন্যদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানান, গত ৪৮ ঘণ্টায় রাশিয়া কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি মেনে চলছে, এমন কোনো লক্ষণই দেখা যায়নি।
সূত্র মতে, কিয়েভকে এই চুক্তিতে রাজি করাতে ইউক্রেনের সাথে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং অস্ত্র সরবরাহ ব্যবস্থাবন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। তবে, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ১০ মিনিটের মধ্যেই খারকিভের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নং ৫-এ রুশ মিসাইল আছড়ে পড়ে। রবি ও সোমবার খারকিভ এবং অন্যান্য স্থানে রুশ হামলায় ৬ জন নিহত এবং অন্তত ১২ জন মারাত্মক আহত হন। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব ও নিজ দেশের রাজনৈতিক স্বার্থে ট্রাম্প যে যুদ্ধবিরতির বাজি ধরেছেন, রাজপথে রুশ মিসাইলের তাণ্ডবে তা এখন চরম ধোঁয়াকাশার মুখমুখী।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
