রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনের ওলেশকি শহরে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেয়া ও আটকে পড়া বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সরাসরি মধ্যস্থতায় এই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। এর পাশাপাশি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করতে আগামী নভেম্বর মাসে আবার টেবিলে বসতে যাচ্ছেন দুদেশের প্রতিনিধিরা।
এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, আগামী ২৭ অক্টোবর ভোর ৪টা থেকে এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। এই সময়ের মধ্যে ডিনিপ্রো নদীর তীরবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত ওলেশকি শহরে খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহের পাশাপাশি মাইন অপসারণের মাধ্যমে বিশেষ মানবিক করিডোর প্রস্তুত করা হবে।
ইউক্রেনে সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনে মার্কিন প্রশাসনের নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা নভেম্বরের প্রথমার্ধে আবু ধাবিতে একটি কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন।

পরবর্তীতে সুইজারল্যান্ড বা সংযুক্ত আরব আমিরাতে উচ্চপর্যায়ের শীর্ষ বৈঠকেরও সম্ভাবনা রয়েছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা স্থবির হয়ে যাওয়ার পর এই প্রথম সরাসরি আলোচনার সুযোগ তৈরি হলো।
মেলানিয়া ট্রাম্পের বিশেষ আগ্রহ ও প্রচেষ্টায় এই মানবিক সমঝোতা সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে যুদ্ধ চলাকালে রাশিয়ার হাতে আটকে পড়া ইউক্রেনীয় শিশুদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখছিলেন। যুদ্ধের আগে ওলেশকিতে ২৪ হাজার মানুষ বসবাস করলেও তা বর্তমানে কমে পৌনে দুই থেকে দুই হাজারে ঠেকেছে, যাদের অধিকাংশই প্রবীণ ও তীব্র খাদ্যসংকটে ভুগছেন। উভয় পক্ষই মেলানিয়ার এই মানবিক পদক্ষেপে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে অস্ত্রবিরতি পালনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এদিকে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যে সাম্প্রতিক কিছু ইস্যুতে গুঞ্জন তৈরি হলেও পরিস্থিতি পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত স্টারলিংক ইন্টারনেট সুবিধায় সাম্প্রতিক গতিসীমা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিয়ে স্পেসএক্সের সিইও ইলন মাস্কের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান তিনি।
কূটনৈতিক অগ্রগতির একই দিনে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ২৭০ জন করে মোট ৫৪০ জন যুদ্ধবন্দি বিনিময় হয়েছে। অন্যদিকে, চার বছর পেরিয়ে যাওয়া এই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৭৬২ শিশুসহ ১৯ হাজারের বেশি ইউক্রেনীয় বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন বলে কিয়েভ সূত্রে জানা গেছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
