আফ্রিকান দেশ সোমালিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠী আল-শাবাবের বিরুদ্ধে সোমালি সরকারকে সহায়তায় নিয়োজিত থাকা উগান্ডা তাদের সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সোমবার, উগান্ডা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে দেশটিতে উগান্ডার দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
সোমালিয়ায় আফ্রিকান ইউনিয়নের মিশন 'অসোম'-এর অধীনে উগান্ডার প্রায় ৪,৫০০ সেনা মোতায়েন রয়েছে। তবে এর বাইরে সোমালি সরকারের সঙ্গে উগান্ডার দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় আরও অতিরিক্ত সেনা কাজ করছিল।
উগান্ডা পিপলস ডিফেন্স ফোর্সেসের মুখপাত্র ক্রিস মেগেজি এক বিবৃতিতে জানান, প্রথম দফায় মূলত এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অধীনে থাকা সৈন্যদের ফিরিয়ে নেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রথম কন্টিনজেন্টটি দেশে ফিরে এসেছে। তিনি জানান, ২০২৭ সালের শেষের মধ্যে 'অসোম' মিশনের সৈন্যসহ উগান্ডার সকল বাহিনীর সদস্যকে সোমালিয়া থেকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হবে।
দীর্ঘ দুই দশক ধরে সোমালি সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে আসছে আল-কায়েদার অনুসারী উগ্রপন্থী গোষ্ঠী আল-শাবাব। কঠোর শরিয়াহ আইন চালুর লক্ষ্যে পরিচালিত এই লড়াইয়ে তারা নিয়মিতভাবে সামরিক ও সাধারণ বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বোমা ও বন্দুক হামলা চালিয়ে আসছে।
উগান্ডার সেনা প্রত্যাহারের কারণে তৈরি হতে যাওয়া নিরাপত্তা শূন্যতা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ। জাতিসংঘে পাঠানো ‘অসোম’-এর একটি চিঠিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, হঠাৎ সেনা প্রত্যাহারের কারণে লোয়ার শাবেলে অঞ্চলটি নতুন করে আল-শাবাবের আক্রমণের মুখে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে সোমালিয়ার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আলী ওমর জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও উগান্ডার বাহিনী হঠাৎ করে সরে গেলে পরবর্তীতে বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকট তৈরি হতে পারে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পূর্ব আফ্রিকার এই অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে উগান্ডার সেনা প্রত্যাহারের সাথে সাথে বিকল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা সোমালি সরকারের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
