টানা তৃতীয় মেয়াদে শপথ নেওয়ার আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদি। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
পদত্যাগের আগে মোদির সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয় বর্তমান মন্ত্রিসভার শেষ বৈঠক। ওই বৈঠকে নরেন্দ্র মোদি বলেন, জয়-পরাজয় রাজনীতির অংশ মাত্র।
গত তিনটি নির্বাচনের মধ্যে বিজেপি এবার সবচেয়ে খারাপ ফলাফলের পর এ মন্তব্য করলেন তিনি। ভোটের ফল অনুযায়ী, ৫৪৩টি আসনের মধ্যে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট পেয়েছে ২৯২ আসন, আর বিজেপি একা পেয়েছে ২৪০ আসন।
কিন্তু ১০ বছর আগেও এই চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে ২৭২ এবং ২০১৯ সালের নির্বাচনে ৩০৩ আসন পায় বিজেপি একাই। কিন্তু গতবারের তুলনায়ে এবার বিজেপির শক্তি যে অনেকটাই ক্ষুণ্ন হয়েছে, তা ভোটের রায়ে স্পষ্ট।
ভারতে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ২৭২ আসন। গত দুইবার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা সরকার গঠন করায় যে দাপট দেখিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি, এবার আর তা হচ্ছে না। মোদি হয়ে পড়েছেন নির্ভরশীল। এনডিএ জোটের শরিকদের সঙ্গে নিয়ে তাদের মানিয়ে-বুঝিয়ে সরকার টিকিয়ে রাখতে হবে এবার।
আগের তুলনায় আসন কমে যাওয়ার বেদনা একটু ঘুরিয়ে অন্যভাবে মন্ত্রিসভার বৈঠকে তুলে ধরেছেন নরেন্দ্র মোদি। বলেন, জয়-পরাজয় রাজনীতির অংশ এবং এখানের সংখ্যার খেলা চলতেই থাকে। আমরা গত ১০ বছরে খুবই ভালো করেছি এবং ভবিষ্যতেও করবো।
মন্ত্রিসভার সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘শাসক সংস্থা আপনারা সর্বত্র জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন। আপনারা সবাই খুব ভাল কাজ ও কঠোর পরিশ্রম করেছেন।
বৈঠকের পর বুধবার সকালে রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে দেখা করে নিজের ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের পদত্যাগপত্র জমা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন।
একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের বিজয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদি। আগামী শনিবার বিকেলে তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হতে পারে।
এবার মোদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলে জওহরলাল নেহরুর পর তিনিই হবেন টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয় নেতা।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগ, শপথ শনিবার 