গত ৯ আগস্ট কলকাতার আর জি কর হাসপাতালের সেমিনার রুম থেকে উদ্ধার হয়েছিল তিলোত্তমার মরদেহ। ওই হত্যাকাণ্ডের নির্মমতা নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা ভারতকে। সোমবার ওই হত্যাকাণ্ডের এক মাস পর সুপ্রিম কোর্টে মামলার দ্বিতীয় শুনানি শেষে নবান্নে এক সংবাদিক সম্মেলনে আন্দোলনকারীদের ঘরে ফিরে যাবার আহ্বান জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিলোত্তমা হত্যাকাণ্ডের এক মাসপূর্তি উপলক্ষে রোববার আবারও ‘রাত দখল’ কর্মসূচি পালন করে কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার মানুষ। হত্যার শিকার তিলোত্তমার বাড়ির মোড় থেকে এই মানববন্ধন শুরু হয়। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই হাতে হাত রেখে দাঁড়ান রাস্তায়। কর্মসূচি থেকে দাবি একটাই, ‘বিচার চাই’।
সোমবার সন্ধ্যা থেকেই মিছিলে-গানে-স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে বিভিন্ন পথ। উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে নিহত তরুণীর বাড়ি থেকে আরজি কর হাসপাতাল পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমিটার পথজুড়ে এই মানববন্ধন হয়। এই দীর্ঘপথ হাতে হাত রেখে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান নাগরিকরা।

এ ঘটনায় ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার এই একজনই কি এমন নৃশংস ঘটনার নেপথ্যে, নাকি হাত আছে আরও কারও? তার জবাব চাইছে গোটা রাজ্য, গোটা ভারত।
এদিকে, সোমবার সুপ্রীম কোর্টে শুনানির পর আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে মমতা বললেন, ‘প্রতিদিন রাতে আপনারা যদি রাস্তায় থাকেন, অনেক মানুষের তো সমস্যা হয়। অনেক এলাকায় অনেক বয়স্ক মানুষ আছেন। আলো লাগালে, তাঁদের ঘুমের সমস্যা হয়। দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নিয়মও রয়েছে রাত ১০টার পর মাইক বাজানো নিয়ে। তা সত্ত্বেও তো আমরা সব ছেড়ে দিয়েছি। এক মাস তো হয়ে গেল। আমি অনুরোধ করব, পুজোতে ফিরে আসুন, উৎসবে ফিরে আসুন।’
এ সময় তাড়াতাড়ি বিচারের ব্যবস্থা করতে সিবিআইকে অনুরোধ করেন মমতা।
সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ টেনে মমতা বললেন, ‘সারা পৃথিবীতে বাংলার নামে বদনাম করা হচ্ছে। একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ জুটেছে। যারা এখান থেকে পড়াশোনা করে, খেয়েদেয়ে, মানুষ হয়ে বাইরে গিয়েছেন- তারা একতরফা কথা শুনে বাংলার বদনাম করছেন। তারা তো দু’পক্ষকে শুনতে পারছেন না। তাদের বোঝা উচিত, বাংলাদেশ আলাদা রাষ্ট্র। ভারত আলাদা রাষ্ট্র। এটি আপনারা মাথায় রাখতে ভুলে গিয়েছেন। বাংলাদেশ একটি অন্য রাষ্ট্র, তাদের আমরা সম্মান করি। তাদের ভাষাকে সম্মান করি। এখানে বাংলাদেশ হবে না।’
কলকাতার পুলিশ কমিশনারের পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘কলকাতার পুলিশ কমিশনার নিজে অনেকবার আমার কাছে এসেছেন পদত্যাগ করার জন্য। সাতদিন আগেও। কিন্তু সামনে পুজো রয়েছে। আপনারাই বলুন, যিনি দায়িত্বে থাকবেন, তাকে তো আইন-শৃঙ্খলা জানতে হবে। কিছুদিন ধৈর্য্য ধরলে কী মহাভারত অশুদ্ধ হয়!’
মনিপুরে সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে রকেট হামলা, নিহত এক