পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে ইসলামাবাদের হাসপাতাল থেকে আবারও আদিয়ালা জেলে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মধ্যরাতে হঠাৎ কড়া নিরাপত্তায় হাসপাতালে এনে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর পর চিকিৎসকরা তাঁকে মেডিকেলি ‘ফিট’ বা শারীরিকভাবে সুস্থ ঘোষণা করায় জেল হেফাজতে পাঠানো হয়।
পাকিস্তানের শীর্ষ আদালত ইমরান খানকে ‘শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল’ নামক একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে স্থানান্তরের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল। তবে শাহবাজ শরিফ সরকার সেই নির্দেশ এড়িয়ে তাকে সরকারি পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে নিয়ে যায়।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, চক্ষু বিশেষজ্ঞ, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এবং জেনারেল ফিজিশিয়ানসহ অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল ইমরান খানের বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তিনি সম্পূর্ণ ফিট প্রমাণিত হওয়ায় পুনরায় আদিয়ালা জেলের নিজ সেলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত আদালত অবমাননার মামলা করার হুমকি দেওয়ার পরেই তড়িঘড়ি করে ইমরানকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করে প্রশাসন।
হাসপাতালে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার পর তাঁর বোন উজমা খান জানান, নিঃসঙ্গ কারাবাসের কারণে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা জটিল হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, শীর্ষ আদালত বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার নির্দেশ দিলেও পুলিশ তাঁকে জোরপূর্বক সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। তিনি আরও জানান, ইমরান খান তাঁর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে হারাচ্ছেন; চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় তিনি ‘রাইট সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেন অকলুশন’ রোগে ভুগছেন। চিকিৎসকরা এটিকে জেলের ভেতরে সুচিকিৎসা না পাওয়ার পরিণতি হিসেবেই দেখছেন।

২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দী ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আনীত সব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রণোদিত। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকারের আইনি দল দাবি করে আসছে, কোনো দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে বেসরকারি হাসপাতালে নয়, বরং সরকারি বিধি অনুযায়ী জেলের ভেতর বা সরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসা দেওয়া আইনি বাধ্যবাধকতা।
মধ্যরাতে ইমরান খানকে হাসপাতালে আনা-নেওয়াকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের বাইরে ব্যাপক সমর্থকদের ভিড় জমায় পিটিআই কর্মীরা, যা ঘিরে পুরো ইসলামাপিতজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
