দু’দিন আগেই, যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক দলের প্রভাবশালী সিনেটর এবং সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান রবার্ট মেনেনডেজ মোটা অঙ্কের ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠার পর সাময়িকভাবে নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তার স্ত্রী নাদিন আর্সলানিয়ানের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ রয়েছে।
প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, মেনেনডেজ ও তার স্ত্রী নাদিন নিউজার্সির তিন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এক লাখ ডলার মূল্যের সোনার বার ও চার লাখ ৮০ হাজার ডলার নগদ অর্থ নিয়ে তাদের নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়েছেন। এছাড়াও সিনেটর ও তার স্ত্রী গোপনে মিশরের সরকারকে সহায়তা করার জন্য অর্থ নিয়েছিলেন।
যদিও নিউইয়র্কের এই ডেমোক্র্যাট নেতার দাবি, তার সহকর্মী একজন নিবেদিতপ্রাণ জনসেবক এবং সর্বদা নিউজার্সির জনগণের জন্য লড়াই করছেন। সিনেটর মেনেনডেজের বিরুদ্ধে ঘুষ কেলেঙ্কারির এমন খবর আসতেই বাংলাদেশে আলোচনায় এসেছে, অভিজাত বাহিনী র্যাবের উপর নিষেধাজ্ঞার পেছনের অন্যতম ক্রীড়ানক ছিলেন এই সিনেটর মেনেনডেজ।
যুক্তরাষ্ট্র সেনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির শীর্ষ সদস্য মেনেনডেজ রিপাবলিকান দলীয় সেনেটার টড ইয়াংয়ের নেতৃত্বাধীন সিনেটের ১০ সদস্য নিয়ে র্যাবের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি আহবান জানিয়েছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিলো যে, ২০১৫ সাল থেকে র্যাব চারশ’রও বেশি লোককে বিচার-বহির্ভূতভাবে হত্যা করেছে।
২০২০ সালের ২৭ অক্টোবর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মানুচিনের কাছে লেখা চিঠিতে সেনেটাররা র্যাবের সিনিয়র কমান্ডারদের লক্ষ্য করে প্রযোজ্য আইনের অধীনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার আহবান জানান। শেষ পর্যন্ত তাদের আহবানে দেশটির ট্রেজারি বিভাগ নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
ওই চিঠিতে সিনেটর মেনেনডেজ ও ইয়াংয়ের ছাড়াও সই করেছিলেন- ডেমোক্র্যাট সিনেটর বেন কার্ডিন, জিন শাহীন, ক্রিস মারফি, ক্রিস কুনস, জেফ মার্কলে, কোরি বুকার এবং রিপাবলিকান সিনেটর কোরি গার্ডনার এবং মার্কো রুবিও।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৫ সালেও সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটি থেকে পদত্যাগ করতে হয়েছিলো মেনেনডেজকে। ওই সময় ফ্লোরিডার এক চক্ষু চিকিৎসকের কাছ থেকে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছিলো তার বিরুদ্ধে। তখন সাময়িকভাবে কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন মেরিল্যান্ডের সিনেটর বেন কার্ডিন।
এখন মেনেনডেজ ও নাদিন দম্পতির বিরুদ্ধে নিউজার্সির তিন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে নগদ অর্থ, সোনা, দামি গাড়ি ও একটি বাড়ির বন্ধকের জন্য ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। কৌঁসুলিদের অভিযোগ, মেনেনডেজ ও তার স্ত্রী গোপনে প্রভাব খাটিয়ে মিসরীয় সরকারকে সহায়তা এবং তিন ব্যক্তিকে আর্থিক সুবিধা দিতে ঘুষ নিয়েছিলেন।
গত শুক্রবার অবমুক্ত করা ৩৯ পাতার অভিযোগে বলা হয়, মেনেনডেজের রাজনৈতিক অবস্থান ও ক্ষমতা তাকে এ ধরনের দুর্নীতিতে জড়াতে উৎসাহিত করেছে। তবে মেনেনডেজ এক বিবৃতিতে বলেছেন, এসব অভিযোগের পুরোটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ঘুষ কাণ্ডে পদত্যাগ করলেন মার্কিন সিনেট কমিটির চেয়ারম্যান