‘মা’ কে এখন আর নিজের ভাষায় ডাকে না চা শ্রমিক সৌরা সম্প্রদায়ের সন্তানেরা। শ্রীমঙ্গলের চা শ্রমিকদের ভাষাটি আজ অতিবিপন্ন। সৌরা সম্প্রদায়ের আছে নিজস্ব ভাষা, বর্ণমালা, সংস্কৃতি। তবে শেকড়চ্যুত এই সম্প্রদায়ের মাঝে এই ভাষাটির চর্চা একেবারেই নেই। প্রাথমিক স্কুলে শিশুরা নিজের মাতৃভাষার পরিবর্তে শেখে বাংলা ভাষা।
ভারতের ত্রিপুরা সীমান্ত ঘেঁষা শ্রীমঙ্গল রাজঘাট ইউনিয়নের বর্মছড়া শিশুশিক্ষা কেন্দ্রে পড়তে আসে খাড়িয়া, ওড়িয়া, সৌরাসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শিশুরা। তাদের ভাষায় বাংলা না হলেও তারা লেখাপড়া করছে বাংলায়।

স্কুল শিক্ষক গীতা ইন্দুয়ার বলেন, আমাদের নিজের যে মাতৃভাষা আছে তা ব্যবহার হচ্ছে না বলে নতুন প্রজন্ম শিখতে পারছেনা।
আরেক স্কুল শিক্ষক লিজা নানুয়ার বলেন, আমাদের বাবা-মা অনেক আগেই মাতৃভাষায় কথা বলা বন্ধ করেছেন। যদি আমাদের বাবা-মা ঠিকমত মাতৃভাষা বলতে না পারেন, তাহলে আমার কীভাবে শিখবো আর নিজেদের সন্তানদের কি শেখাবো।
সৌরা সম্প্রদায় প্রবীণ ব্যক্তি সামরা সৌরা আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা মরে গেলে ভাষাটিও মরে যাবে’। বাবা=মা এ ভাষায় কথা বলে না, তাই সন্তানেরাও শিখতে পারে না।
এই সম্প্রদায়ের প্রবীণজন ভাষাটা ভালো বলতে পারলেও বোঝার ক্ষমতাও নেই নবীনদের। এমনকি ‘মা’ ডাকটিও নতুন প্রজন্ম সৌরা ভাষায় বলছে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যপক তারিখ মনজুর বলেন, দেশে চল্লিশের বেশী নৃ-ভাষার মধ্যে অতি বিপন্ন ১৪টি ভাষার একটি সৌরা। শিশুর পাঠ্যপুস্তকে মাতৃভাষা যুক্ত করা না গেলে বিপন্ন এই ভাষাটি চিরতরে হারিয়ে যাবে।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে মায়ের ভাষা বেঁচে থাকার দাবি, বর্মাবস্তিতে আদি ভাষা সংরক্ষণের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
ভারতের কৃষক আন্দোলনে প্রবীণদের সরব উপস্থিতি