বেইলি রোডে গ্রিন কোজি কটেজের ভয়াবহ আগুনে প্রায় অর্ধশত মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় যত্রতত্র গজিয়ে ওঠা রেস্তোরাঁ বাণিজ্য নিয়ে প্রশ্নে উঠলেও এই ব্যবসার মালিকরা সংগঠন দাবি করেছে, নিরাপদ রেস্তোরাঁ গড়তে সহায়তা করছে না সরকার।
রোববার পুড়ে যাওয়া গ্রিন কোজি কটেজ পরিদর্শনে এসে এই দাবি করেন বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান।
বৃহস্পতিবার রাতে পুড়ে যাওয়া ভবনে আগুনের সূত্রপাত একটি চা-কফির দোকান থেকেই হয়েছিলো বলে পুলিশের মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় ভবন মালিক আমিন মোহাম্মদ গ্রুপসহ দুইটি রোস্তোরাাঁর মালিকদের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে।
এদিকে আগুনে প্রাণহানির ঘটনার পরই রেস্তোরাঁর নিরাপদ পরিবেশ ও অনুমোদন দিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সারাদেশে সাড়ে চার লাখের বেশি রেস্তোরাঁ রয়েছে।
বেশিরভাগ রেস্তোরাঁয় নেই পর্যাপ্ত অগ্নি নিরাপত্তা, যত্রতত্র ব্যবহার হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার।
রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, তিনি বলেন, সাড়ে চার লাখ রেস্তোরাঁর মধ্যে মালিক সমিতির অনুমোদন আছে মাত্র ৭০ হাজার রেস্তোরাঁর।
‘সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানই নিরাপদ রেস্তোরাঁ বাণিজ্য গড়তে সহায়তা করছে না। একটি নিদিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে রেস্তোরাঁ ব্যবসা করার কথা বলা তা বাস্তবায়নে সংস্থাগুলো এগিয়ে আসছে না,’ বলেন ইমরান।
তবে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যারা রেস্তোরাঁ ব্যবসা করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে টাস্কফোর্স গঠন করার দাবি জানান মালিক সমিতির এই নেতা।
তিনি অভিযোগ করেন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষও তাদের কোনো সহায়তা করে না। আর বিভিন্ন সংস্থায় অনুমতি আনতে গেলে পোহাতে হয় নানা ধরনের ভোগান্তি।
বেইলি রোডে আগুনের দায় কে নেবে- এ প্রশ্নে ইমরান হাসান বলেন, রেস্তোরাঁ, ভবন মালিক অথবা সরকারি প্রতিষ্ঠান; কেউ দায় এড়াতে পারে না।
এদিকে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মো. ফিরোজ আলম সুমন বলেন, সরকার আমাদের তোয়াক্কাই করে না। যে যার মতো আইন প্রয়োগ করে।
রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, আমরা একটা কর্তৃপক্ষের তদারকিতে আসতে চাই।
রাজধানীর বেশিরভাগ রেস্তোরাঁয় নেই পর্যাপ্ত অগ্নি নিরাপত্তা