শেয়ারবাজারে কারসাজি করে শত শত কোটি টাকা কামিয়েছেন ছাগলকাণ্ডে আলোচিত মতিউর রহমান। বেছে বেছে দুর্বল কোম্পানির মালিকদের সাথে যোগাযোগ করে, কারসাজির মাধ্যমে শেয়ারের দাম বাড়াতেন তিনি।
এমনকি প্রকাশ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিলভা ফার্মার শেয়ারের দাম দুই থেকে তিনগুণ বাড়ার ঘোষণা দিয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে স্বাক্ষাৎকার দিলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
একটি গণমাধ্যম জানাচ্ছে, মতিউর রহমান ও তার কোম্পানির কাছে অন্তত ১০টি কোম্পানির তিন কোটির বেশি শেয়ার আছে, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সম্প্রতি এক বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এনবিআর থেকে অপসারিত ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত মতিউর রহমান স্বীকার করেন, পুঁজিবাজার সম্পর্কে তার দক্ষতা কাজে লাগিয়ে রুগ্ন কিন্তু সম্ভাবনাময় কোম্পানির শেয়ার কিনে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন তিনি।
নিজের সেই সাক্ষাৎকারে মতিউর জানান, পুঁজিবাজারের দুর্বল ও সম্ভাবনাময় কোম্পানির মালিকদের সঙ্গে তিনি বসতেন এবং তাদের দুর্বলতা চিহ্নিত করা এবং প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করে কোম্পানির উন্নয়নের জন্য সমাধান দিতেন। পড়তিতে থাকা অবস্থায় কম দামে তিনি কোম্পানিগুলোর শেয়ার কিনতেন এবং মূল্য বেড়ে গেলে তা বিক্রি করে দিতেন। এভাবে তিনি ভালো মুনাফা করেন বলেও জানিয়েছেন।
এছাড়াও ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিংয়ের (আইপিও) মাধ্যমে কোম্পানিগুলো কীভাবে বাজারে তালিকাভুক্ত হবে তার পরামর্শক হিসেবেও কাজ করতেন বলে সেই সাক্ষাৎকারে জানান তিনি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মূলত দুর্বল ভিত্তির কোম্পানিগুলোর মালিকদের সাথে কারসাজির মাধ্যমে শেয়ারের দাম বাড়ানোই ছিল মতিউরের বড় ব্যবসা। যার একটি ফরচুন সু। এই কোম্পানির শেয়ার ৮ টাকায় শেয়ার কিনে ৫৪ টাকায় বিক্রি করে ১৪ কোটি টাকা লাভ করেছিলেন মতিউর।
জানা যায় প্রভাব খাটিয়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির আগেই মালিক পক্ষের কাছ থেকে শত কোটি টাকার প্লেসমেন্ট শেয়ার নিয়ে কারসাজি করতেন মতিউর। শাহজালাল ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট, ইমতিয়াজ সিকিউরিটিজ এবং আইল্যান্ড সিকিউরিটিজে মতিউরের নিজের নামে বিও একাউন্টে ১১টি কোম্পানির লাখ লাখ প্লেসমেন্ট শেয়ার নিয়েছিলেন।
দুই সন্তান অর্ণব ও ঈস্পিতা, স্ত্রী শাম্মী আখতার শিবলী, বোন নূর বেগমসহ আরও কয়েকটি বিও একাউন্টে শেয়ার বাণিজ্যের শত কোটি টাকা সরিয়ে রাখতেন মতিউর।
এ প্রসঙ্গে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, কারসাজি করে দূর্বল শেয়ার দাম বাড়ানো এবং শেয়ার দাম বাড়ানোর আগাম ঘোষণা দেয়া পুঁজিবাজারের আইন পরিপন্থি।
এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়ার হবে বলে জানিয়েছে বিএসইসি।
বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার এ ধরনের পরামর্শ দিতে পারে না। পুঁজিবাজারের বিধানেও এর কোনো সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, কোম্পানি কেন তাকে ৮ টাকায় শেয়ার দিল? এটি অনিয়মের একটি গুরুতর অভিযোগ, যা এই কর্মকর্তা নিজেই স্বীকার করেছেন। এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।
‘মাথা ন্যাড়া’ করে মতিউরের পালানোর গুঞ্জন!