গাজীপুরের তিনটি কারখানায় বেতন ভাতা পরিশোধসহ বিভিন্ন দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ হয়েছে। এসময় শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবরোধ করলে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে যৌথবাহিনী সদস্যরা শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে। সাভারের আশুলিয়াতেও শ্রমিক বিক্ষোভে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে কারখানাগুলোতে।
সোমবার সকালে গাজীপুরের সদর উপজেলার বাঘের বাজার এলাকায় গোল্ডেন রিফিট গার্মেন্টসের শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে হাজিরা বোনাস বৃদ্ধিসহ ১২ দফা দাবি জানিয়ে ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের হাজিরা বোনাস, টিফিন বিল, নাইট বিলসহ আটটি দাবি মেনে নেয়।
গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের বাঘের বাজার জোনের পরিদর্শক সুমন মিয়া জানান, শ্রমিকরা মহাসড়কে সড়ক অবরোধ করলে যানজটের সৃষ্টি হয়। কারখানা কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের সাথে আলোচনা করে দ্রুত সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা চলছে।
এছাড়া কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাকে কোকোলা ফুড প্রোডাক্টস নামে একটি খাদ্য উৎপাদন তৈরি কারখানার শ্রমিকরা কারখানার সামনে অবস্থান শুরু করে।
কারখানার শ্রমিকদের হাজিরা বোনাস, বাৎসরিক ছুটিসহ ১২ দফা দাবির প্রেক্ষিতে কারখানা কর্তৃপক্ষ রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এই কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করে।
অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার পরও সোমবার সকালে শ্রমিকরা কারখানার সামনে অবস্থান করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে কিছু সময় অবরোধ করে। একপর্যায়ে কিছু উশৃঙ্খল শ্রমিক বন্ধ থাকা কারখানার ভেতরে ঢুকে করে ভাঙচুর চালায়।
খবর পেয়ে যৌথবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের ধাওয়া করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়।
অন্যদিকে, গাজীপুর মহানগরের টঙ্গীতে বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা। সকাল সাড়ে ৯টায় টঙ্গীর খাঁ পাড়া এলাকায় সিজন্স ড্রেসেস লিমিটেডের শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে।
সিজন্স ড্রেসেস লিমিটেড নামক পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সকাল ৭ টায় কারখানার সামনে গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে শ্রমিকরা সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জুলাই ও আগস্ট মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে।
এ বিষয়ে গাজীপুর শিল্প পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোশাররফ হোসেন বলেন, শ্রমিকদের সাথে মালিকপক্ষের যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। শ্রমিকেরা বেতনের জন্য সারা দিন কারখানায় বসে ছিলেন। কিন্তু কারখানার মালিক বেতন দেননি। সেই সঙ্গে তাদের সঙ্গে কোনো রকম কথা বলা বা যোগাযোগের চেষ্টাও করেননি। এ কারণে শ্রমিকেরা বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছেন। তিনি আরও বলেন, এই কারখানার মালিক সব সময় শ্রমিকদের বেতন নিয়ে ঝামেলা করেন। এর আগেও কয়েকবার বহু দেনদরবার করে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করাতে হয়েছে। এটার সমাধান হওয়া উচিত।

শিল্প পুলিশ ও কারখানা সূত্রে জানা যায়, সিজন ড্রেসেস লিমিটেড কারখানায় ১৬০০ শ্রমিক কাজ করেন। কারখানাটিতে গত জুলাই মাসের অর্ধেক ও আগস্ট মাসের পুরো বেতন বকেয়া আছে। ১৭ সেপ্টেম্বর বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করলে কারখানা কর্তৃপক্ষ জুলাই মাসের অর্ধেক বেতন পরিশোধ করে। বাকি অর্ধেক বেতন রোববার পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু সারা দিন পার হয়ে গেলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের বেতন দেয়নি। তাইেোমবার বকেয়া বেতনের দাবিতে আবারও রাস্তায় নেমে আসেন শ্রমিকেরা।
উৎপাদন বন্ধ আশুলিয়ায়
এদিকে সাভারের আশুলিয়ায় বকেয়া বেতনের দাবিতে টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। রোববার থেকে নানা দাবির মুখে আবারও এই অঞ্চলে বেশ কিছু তৈরি পোশাক কারখানায় অসন্তোষ শুরু হয়েছে। এতে অন্তত ১৯টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ। তবে, ওই সড়কের দুইপাশের বেশিরভাগ কারাখানাতে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের নরসিংহপুর এলাকায় জেনারেশন নেক্সট গার্মেন্টসের কয়েক হাজার শ্রমিক সড়ক অবরোধ করেন।
কারখানার শ্রমিকরা জানায়, অনেক কারখানায় যখন টিফিন বিল, নাইট বিল, হাজিরা বোনাস বাড়িয়ে দেওয়ার মতো দাবি করে আন্দোলন করছিলো তখন তারা কোনো দাবি তোলেননি। অন্য কারখানার শ্রমিকরা এসে তাদের কারখানায ঝামেলা করার চেষ্টা করলেও তারা কাজ করেছেন। তারপরও মালিক কেন এখন কারখানা বন্ধ করে রেখেছে।
শ্রমিকরা বলছেন, গত দুই মাস তাদের বেতন পরিশোধ করা হয়নি। এর আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দেয়া হলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে তারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক জানান, সকালে নরসিংহপুর এলাকায় একটি কারখানার শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। ঘটনাস্থলে আমাদের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত আছেন।
এদিকে শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার থেকে নানা দাবির মুখে আবারও এই অঞ্চলে বেশ কিছু তৈরি পোশাক কারখানায় অসন্তোষ শুরু হয়েছে। এতে অন্তত ১৯টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছিলো শিল্প পুলিশ। তবে সোমবার সকাল থেকে টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের দুই পাশে অবস্থিত অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম জানান, কত সংখ্যক গার্মেন্টস বন্ধ আছে এর সঠিক তথ্য এখনও আমার কাছে নেই, তালিকা পাইনি।
