বর্ষা মৌসুমে রাজধানী ও আশেপাশের এলাকা ছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ এবং অর্থনীতিতে এর আঘাত প্রতিঘাত গত কয়েক দশকের অভিজ্ঞতাকে ছাড়িয়ে গেছে। শুধু দেশের পূর্বাঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যায় আনুমানিক ১৪ হাজার ৪২১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা বা প্রায় এক দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
রোববার রাজধানীর সিপিডি কার্যালয়ে 'পূর্বাঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া: সিপিডির বিশ্লেষণ' শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই ক্ষতির পরিমাণ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের এক দশমিক ৮১ শতাংশ।
গত ১৯ আগস্ট শুরু হওয়া এই বন্যা ক্রমাগত ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে আসা পানির প্রবাহে হয়েছিলো। বন্যায় দেশের পূর্বাঞ্চলের ১১ জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেসব জেলায় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে সিপিডি এসব তথ্য জানিয়েছে। কৃষি ও বন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই দুই খাতে ক্ষতির পরিমাণ পাঁচ হাজার ১৬৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এটি মোট ক্ষতির ৩৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে নোয়াখালীতে ২৯ দশমিক শূন্য সাত শতাংশ, কুমিল্লায় ২৩ দশমিক ৫১ শতাংশ, ফেনীতে ১৮ দশমিক ৬১ শতাংশ ও চট্টগ্রামে ১১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। সিপিডি আরও বলছে, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও ফেনীতে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ক্ষতি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লাসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ১৪ হাজার ৪২১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) দশমিক ২৬ শতাংশ। এর মধ্যে কৃষি ও বন খাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে, যার পরিমাণ পাঁচ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, অবকাঠামো খাতে চার হাজার ৬৫৩ কোটি টাকার এবং ঘরবাড়িতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দুই হাজার ৪০৭ কোটি টাকার। জেলা হিসাবে নোয়াখালীতে সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে। এ জেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ চার হাজার ১৯১ কোটি টাকা। এরপর আছে কুমিল্লা জেলা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তিন হাজার ৩৯০ কোটি টাকা।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম অনুষ্ঠানে বলেন, এবারই প্রথম বন্যার কারণ ও ক্ষতি নিয়ে বেশি বেশি আলোচনা হয়েছে। এই আলোচনার ধারাবাহিকতায় বন্যার কারণ নিয়ে বৈজ্ঞানিক বিচার-বিশ্লেষণ প্রয়োজন। যার মাধ্যমে বন্যার কারণ ও ক্ষতি রোধে আগে থেকে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এবারের বন্যা প্রকৃতিগতভাবে ভিন্ন। এবারের বন্যায় নতুন এলাকায় ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতি মানবসৃষ্ট হোক বা প্রকৃতিগত হোক, আগামী দিনগুলোতে এ ধরনের বন্যার মুখোমুখি হতে হবে; এই বাস্তবতা মেনে আগামী দিনের দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি সাজাতে হবে।
ব্রিফিংয়ে সিপিডির গবেষণাপত্র তুলে ধরেন সংস্থার ফেলো গবেষক মুনতাসির কামাল। এতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্যোগ পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি সামলাতে, আগামীতে এ খাতে সরকারের বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়। একই সাথে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের কৃষিঋণ সুবিধা ও ক্ষুদ্র ঋণ নেয়া উদ্যোক্তাদের কিস্তি পরিশোধে সময় বাড়ানোসহ জরিমানা মওকুফের মত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রয়োজন: পরিবেশ উপদেষ্টা
পুলিশ আইন আধুনিকায়ন করা উচিৎ: সফর রাজ