পুরোপুরি বদলে যাচ্ছে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া। এখন আর আগের মতো শুধু কাজের অভিজ্ঞতা দেখা হবে না। দেখা হবে ঠিকাদারের অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঋণ খেলাপির রেকর্ডও।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি- একনেক সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এসব কথা জানান।
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগে অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। এতে ঘুরে ফিরে কাজ পেতো অল্প কিছু কোম্পানি। যাদের অনেকে ধীরে ধীরে মাফিয়া হয়ে ওঠেন। জড়িয়ে পড়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে। টাকা খরচ করেও মেলে না উন্নয়ন প্রকল্পের মান।
তাই ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া ঢেলে সাজাতে আইন ও বিধিবিধান পরিবর্তন করছে সরকার। যা আগামী সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভা শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, এটি হবে সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়ার নীরব মাইলফলক।
ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, অনিয়ম ও অস্বচ্ছতা দূর করতে সব প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া এখন থেকে অনলাইনে হবে। এ বিষয়ে আইন চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহেই গেজেট আকারে তা প্রকাশ করা হবে। এতে গুটিকয়েক মাফিয়া প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য বন্ধ হবে।
তিনি বলেন, এখন থেকে যোগ্য প্রতিষ্ঠানকেই মূল্যায়ন করা হবে। প্রভাব নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ দেয়া হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান ঋণ খেলাপি হলে বা আগের কোনো অনিয়মে জড়িত থাকলে, তাকে দরপত্রে অযোগ্য বিবেচনা করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করা হয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, সরকারের নানা তদারকিতে অনিয়মের সুযোগ কমেছে উন্নয়ন কাজে। এজন্য কর্মকর্তারা প্রকল্প পরিচালক হতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। আর বিদেশি অর্থায়নে বড় প্রকল্প নিতেও সরকার আগ্রহ দেখাচ্ছে না বলে জানান উপদেষ্টা। এছাড়া সারাদেশে সরকারি খাস জমি উদ্ধারে বিশেষ কমিটি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানান, কৃষিজমি অধিগ্রহণ না করে, এখন থেকে খাস জমি দিয়েই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারের বহু খাস জমি পড়ে আছে। উপদেষ্টাদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন হয়েছে। তারা দেশে কী পরিমাণ খাস জমি আছে ও সেগুলো দখলে আছে কিনা- তা চিহ্নিত করে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।
মাহমুদ বলেন, যারা প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ছিলেন, তারা অনেকেই দেশ ছেড়েছেন। ফলে কেউ আইন প্রণয়নে বাধা দেয়ার সাহস পায়নি।’
তিনি আরও বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে ধীরগতি কেন- তা খতিয়ে দেখতে আগামী সপ্তাহে বৈঠকে বসবে সরকার। এলডিসি উত্তরণ হলে সহজ শর্তে আর ঋণ পাওয়া যাবে না। তাই এই সময়টাকে শেষ সুযোগ হিসেবে দেখে ভালো প্রকল্পের জন্য সহজ শর্তে যতটা সম্ভব ঋণ নিতে চায় সরকার।
