গণভোট নিয়ে সরকার শিগগিরই সিদ্ধান্ত দেবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেছেন, এনিয়ে সরকার রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আর আলোচনায় বসবে না। অন্তবর্তী সরকার নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে।
সোমবার (১০ নভেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরের সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন আর গণভোট একসঙ্গে করা বা আগে করার সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, এক সঙ্গে বসে সরকার সামষ্টিকভাবে এই সিদ্ধান্তটা নেবে। আপনাদেরকে খুব দ্রুতই এটা আমরা জানিয়ে দেব।
নির্বাচনের আগে গণভোট করার কোনো যৌক্তিকতা আছে কিনা জানতে চাইলে সৈয়দা রিজওয়ানা বলেন, এ বিষয়ে ব্যক্তিগত মতামত দেয়ার কোনো সুযোগই নেই। সরকারের অংশ হিসেবে আমাকে অপেক্ষা করতে হবে। সরকার যখন বসবে এ বিষয়ে আলোচনা করবে। যখন সিদ্ধান্ত হবে তখন সেটা আপনারা জানবেন।
এছাড়া, সরকার সর্বোচ্চ দিয়ে অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবে জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে পতিত সরকার বা কোনো অশুভ শক্তি অস্থিরতার চেষ্টা করলে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবে সরকার।
রাজধানীতে বাসে আগুন ও গুলি করে মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটছে। নির্বাচন সামনে রেখে সরকার এগুলো কীভাবে দেখছে- জানতে চাইলে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আমরাও কিন্তু একটা প্রচণ্ড গণ অসন্তোষের মুখে পতিত সরকারের পরে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। ওই পতিত সরকার দেশে ছিল প্রায় ১৬ বছর। এখন নির্বাচনটা ফেব্রুয়ারিতে হয়েই যাচ্ছে। এখানে নানানভাবে পানি ঘোলা করার চেষ্টা করা হচ্ছিল, সেটা এখন দেশের মানুষের কাছে স্পষ্ট যে, অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের পথে সুদৃঢ়ভাবে হাঁটছে।
তিনি বলেন, এখন এই নির্বাচন ঘিরে কিছু কিছু ন্যস্ত স্বার্থ তো রয়েই গেছে, সেই পতিত সরকার বা অন্য কোনো অশুভ শক্তি। কিছু কিছু বিষয়ে হয়তো আমরা আমাদের বিশ্লেষণের মধ্যে আনতে পারি। কিছু বিষয় বিশ্লেষণের মধ্যে আনতে পারি না।
উপদেষ্টা আরও বলেন, যখনই এমন অস্থিরতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হবে তখন আমাদেরকে সরকার হিসেবে সর্বোচ্চটুকু দিয়ে সেই অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে হবে। আমাদের চেষ্টা থাকবে প্রথমত কেউ যাতে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে না পারে। তারপরও যদি অস্থিরতা সৃষ্টি হয়, সেখানে রিয়েক্টিভ অ্যাপ্রোচে যেতে হবে।
