শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কোনো ধরনের দুর্নীতি সহ্য করা হবে না এবং এই খাতকে রাজনীতিমুক্ত রাখা হবে বলে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন নতুন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। রোববার (দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তাঁরা এই প্রতিশ্রুতি দেন।
সভায় শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী উভয়েই ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, আমরা দুর্নীতি করি না, করব না এবং কাউকে করতেও দেব না- এই অবস্থানে সরকার অনড়। শিক্ষা খাতে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।
একই সুরে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, মন্ত্রণালয়ের কাজে কোনো ধরনের রাজনীতিকরণ হবে না। আমরা দুজন সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেব যেন এই মন্ত্রণালয় একটি আদর্শ দুর্নীতিমুক্ত দপ্তরে পরিণত হয়।
বৈঠকে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে শিক্ষা কারিকুলামে সামঞ্জস্য আনা, চাকরি জাতীয়করণ, এনটিআরসিএ-এর নিয়োগ ব্যবস্থা পর্যালোচনা এবং অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম গতিশীল করার দাবি জানানো হয়।

শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষকদের আশ্বস্ত করে বলেন, রাজপথে আন্দোলন না করে আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। তিনি জানান, বাজেট সংক্রান্ত কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও শিক্ষকদের ন্যায্য দাবিগুলো তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করবেন। বিশেষ করে এনটিআরসিএ এবং নিয়োগ বিধিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধনীর বিষয়ে দ্রুত রিভিউ করা হবে।
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ শিক্ষকদের লিখিত দাবিগুলো গুরুত্বের সাথে আমলে নেয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, আমরা হঠাৎ করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাই না যা সাময়িক। বরং আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করেই একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে যেতে চাই, যাতে কয়েক বছর পর একই দাবিতে শিক্ষকদের আবারও আন্দোলনে নামতে না হয়। তিনি আরও যোগ করেন যে, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের মর্যাদার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করবে বর্তমান সরকার।

সভায় স্কুল ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডিতে আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। একজন ব্যক্তি যেন একাধিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে না থাকতে পারেন, সেই বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এছাড়া অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের অনিষ্পন্ন আর্থিক বিষয়গুলো নিয়ে শিগগিরই আলাদা বৈঠক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য সেলিম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে শিক্ষক প্রতিনিধিরা এই আলোচনায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। সরকারের এই ইতিবাচক মনোভাব শিক্ষা খাতের অস্থিরতা দূর করবে এবং একটি মানসম্মত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
