দেশের মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা সমাপনীর সবচেয়ে বড় আসর মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা আগামীকাল ২১ এপ্রিল (মঙ্গলবার) সকাল ১০টা থেকে সারাদেশে একযোগে শুরু হচ্ছে।
এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন।
এবারের পরীক্ষা প্রশ্নফাঁসমুক্ত, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে শিক্ষা বোর্ডগুলো সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। বিশেষ করে পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে প্রথমবারের মতো প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ 'একগুচ্ছ' পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষার প্রথম দিন ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র এবং সহজ বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা নেওয়া হবে। আর মাদ্রাসার কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা হবে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দকার এহসানুল কবির রোববার সরকারি বার্তা সংস্থাকে বলেন, ২১ এপ্রিল থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা আয়োজনে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও পরীক্ষা চলাকালে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবার প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষা গ্রহণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে আরও বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বোর্ডভিত্তিক পরিসংখ্যান: আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার মোট ১৪ লাখ ১২ হাজার ৪৭৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৭ লাখ ৫১ হাজার ৯৩ জন।
বোর্ডভিত্তিক পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৬১ হাজার ৩৩৫ জন রয়েছে। অন্যান্য বোর্ডের মধ্যে রাজশাহীতে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭০৯ জন; কুমিল্লা বোর্ডে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩০৬ জন; যশোর বোর্ডে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৮৯ জন; চট্টগ্রামে ১ লাখ ৩০ হাজার ৫৭৯ জন; বরিশালে ৮১ হাজার ৮৩১ জন; সিলেটে ৮৯ হাজার ১৯০ জন; দিনাজপুরে ১ লাখ ৮০ হাজার ৭০১ জন এবং ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৯ হাজার ২৩৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৬১ হাজার ৪৯১ জন এবং ছাত্রী ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯৫ জন। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ১ হাজার ৫০৯ জন এবং ছাত্রী ৩৩ হাজার ১৫১ জন।
সারাদেশে মোট ৩ হাজার ৯০২টি কেন্দ্রে ৩০ হাজার ৪২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের পরিসংখ্যান মতে, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। ২০২৫ সালে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৭০ জন। ২০২৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ জনে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা গত বছরের ৩০ হাজার ৪৫টি থেকে বেড়ে এ বছর ৩০ হাজার ৪২৫টিতে উন্নীত হয়েছে।
এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এসএম কামাল উদ্দিন হায়দারের সই করা সূচি প্রকাশিত হয়। সূচি অনুযায়ী পরীক্ষার্থীদের মানতে হবে ১৪ নির্দেশনা। সেগুলো হলো–
১. পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই পরীক্ষার্থীদের আসন গ্রহণ করতে হবে।
২. প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা নিতে হবে।
৩. প্রথমে বহুনির্বাচনি ও পরে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং উভয় পরীক্ষার মধ্যে কোনও বিরতি থাকবে না।
৪. পরীক্ষার্থীরা তাদের প্রবেশপত্র নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছে থেকে পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে তিন দিন আগে সংগ্রহ করবে।
৫. শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়গুলো জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) নির্দেশনা অনুসারে ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রাপ্ত নম্বর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রকে সরবরাহ করবে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে ধারাবাহিক মূল্যায়নে প্রাপ্ত নম্বর বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনে পাঠাতে হবে।
৬. পরীক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ উত্তরপত্রের ওএমআর ফরমে তার পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড ইত্যাদি যথাযথভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করবে। কোনও অবস্থাতেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না।
৭. পরীক্ষার্থীকে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনি ও ব্যবহারিক অংশে পৃথকভাবে পাস করতে হবে।
৮. প্রত্যেক পরীক্ষার্থী কেবল নিবন্ধনপত্রে বর্ণিত বিষয়/বিষয়গুলোর পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। কোনও অবস্থাতেই ভিন্ন বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া যাবে না।
৯. পরীক্ষা শুরুর অন্তত সাত দিন আগে পরীক্ষার্থীদের মাঝে প্রবেশপত্র বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে কোনও জটিলতা তৈরি হলে প্রতিষ্ঠানের প্রধান দায়ী থাকবেন।
১০. পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে।
১১. কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কোনও ব্যক্তি/পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন আনতে এবং ব্যবহার করতে পারবেন না।
১২. সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনি ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর উপস্থিতির জন্য একই উপস্থিতি পত্র ব্যবহার করতে হবে।
১৩. ব্যবহারিক পরীক্ষা স্ব স্ব কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।
১৪. পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সাত দিনের মধ্যে পুনর্নিরীক্ষণ জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে। এ বিষয়ে দৈনিক পত্রিকায় এবং শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া, তারিখ ও সময় জানিয়ে দেওয়া হবে।
প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে এসএসসি এবং এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হলেও বিদ্যমান পরিস্থিতিতে গত বছর এবং এ বছর তার ব্যত্যয় ঘটেছে।
হজের খরচ মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্য রাখতে চায় সরকার: পর্যটন প্রতিমন্ত্রী
দেশজুড়ে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু