মাটির গুণগত মান বজায় রাখা এবং স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৃক্ষরোপণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
শনিবার (৬ মে) সকালে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে বৃক্ষরোপণ সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের সব অঞ্চলের মাটির বৈশিষ্ট্য এক নয়। যে এলাকায় যে ধরনের মাটি ও পরিবেশ রয়েছে, সে অনুযায়ী গাছ নির্বাচন করে লাগাতে হবে। এতে গাছের বেঁচে থাকার হার বাড়বে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দিন দিন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আমাদের ঋতুচক্রেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আগে জুন মাস এলেই নিয়মিত বৃষ্টিপাত হতো, কিন্তু এখন সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। প্রকৃতির এই বিরূপ আচরণের পেছনে বনাঞ্চল ও গাছপালা কমে যাওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সরকারের এক বিশাল কর্মপরিকল্পনার কথা জানানো হয় এই বৈঠকে। আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে মোট ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এই বিশাল কর্মসূচি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং এর সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়।
পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের এই মেগা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই। আগামী ১৪ জুন কক্সবাজারের ডুলহাজরায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, পরিবেশ সচিব রায়হান কাওছার, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক লুৎফুর রহমান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল হক, প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী এবং ‘২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সেল’-এর সদস্য জামাইল বশীর জেবি
