স্থানীয়দের বাধার মুখে প্রায় একমাস বন্ধ থাকার পর রাজধানীর উত্তরখান এলাকায় পুলিশের পাহারায় শুরু হলো তুরাগ নদের পাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণ কাজ।
এরআগে তুরাগ পাড়ের এসব জায়গা ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলে দাবি করে আসছিলো স্থানীয়রা। তাই ওয়াকওয়ে নির্মাণের জায়গার জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তারা।
বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, কারো ব্যক্তিগত বৈধ জমিতে নয়। নদের জায়গাতেই ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা করা হচ্ছে।
বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগসহ চার নদী রক্ষায় ২০১৮ সালে প্রকল্প নেয় সরকার। এর অংশ হিসেবে নদী তীরে সীমানা পিলার স্থাপন, ওয়াকওয়ে ও জেটি নির্মাণসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করে ঢাকার চারপাশে বৃত্তাকার ২২০ কিলোমিটার নৌপথ সুরক্ষার কথা।
কিন্তু স্থানীয়দের বাধার মুখে গেলো ১৩ জানুয়ারি উত্তরখানের মাউসাঈদ এলাকায় তুরাগ নদের তীরে ৩.৬০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ের নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
প্রায় একমাস পর, সোমবার সকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় প্রকল্প এলাকায় আসেন সংশ্লিষ্টরা। শুরু হয় নির্মাণ কাজ। তবে, কোনো বাধা ছাড়াই আবারও শুরু হয় কর্মযজ্ঞ।
বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে অভিযান চালিয়ে প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেয়া চক্রের কাছ থেকে তুরাগের জায়গা দখলমুক্ত করে বিআইডব্লিউটিএ।
স্থানীয়ের দাবি, এ জায়গা তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি। ভূমি অফিসে তাদের নামে রেকর্ডভুক্ত। নিয়মিত তারা খাজনা-খারিজ দিচ্ছেন। কাগজপত্রও হালনাগাদ।
বিআইডব্লিউটিএ বলছে, এর আগে সীমানা পিলার নির্মাণের সময়ও বাধা দিয়েছিলো স্থানীয় প্রভাবশালীরা। সরকারি কাজে বাধা দেয়ায় ইতোমধ্যেই উত্তরখান থানায় জিডিও হয়েছে।
আরও পড়ুন: করোনা: পাঁচ মাস পর একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু
ঢাকার চার নদীরক্ষায় সীমানা নির্ধারন করে পিলার বসানো ও স্থায়ী ওয়াকওয়ে নির্মান প্রকল্প শুরু হয় ২০১৮ সালে। এরিমধ্যে যার কাজ শেষ হয়েছে ৪০ শতাংশ। পুরো প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১,১৮১ কোটি ১০ লাখ টাকা।
তুরাগ নদের উত্তরখান অংশে ওয়াক নির্মাণ কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। যা চলতি বছরের আগস্টে শেষ হবার কথা।
একাত্তর/আরবিএস
