দালালের বিরুদ্ধে মানব পাচার মামলা করে এখন জীবন শঙ্কায় ভুক্তভোগীরা। তথ্য প্রমাণ থাকার পরও গ্রেপ্তার হচ্ছে না দালাল। উল্টো টাকা ফেরত চাইলে পেতে হচ্ছে হত্যার হুমকি।
ঢাকার অদূরে নবাবগঞ্জে এমনি এক পরিবারের সাথে কথা বলেছে একাত্তর। যারা সবাই জেনে বুঝে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লিবিয়া হয়ে যেতে চেয়েছিলো ইউরোপ।
আফ্রিকার টোগোতে মানব পাচারের শিকার হয়েছিলেন বাংলাদেশের নবাগঞ্জের সাইদুর এবং তার মতে অনেকেই।
তাদের বাঁচার আবেদন নিয়ে একাত্তর টিভিতে এক প্রতিবেদন প্রচারের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আওয়াজ ফাউন্ডেশনের সহায়তায় দেশে ফেরেন সাইদুর।
ঢাকার অদুরে নবাবগঞ্জে সেই সাইদুরের বাড়ি গিয়েছিল একাত্তর। কারণ, সাইদুর সেই দালালের বিরুদ্ধে মানব পাচার মামলা করেছে।
সাইদুর বলছে, তার মূল লক্ষ ছিলো ইতালি। এজন্য তাকে আফ্রিকার দেশ টোগোতে নেয়া হয়। কিন্তু ঢাকা ইমিগ্রেশন বিষয়টি বুঝতে পেরে তার পাসপোর্ট তিন মাসের জন্য বাতিল করে।
কিন্তু দালালরা ভিন্ন নামে নতুন পাসপোর্ট করে তাকে আবার টোগো পাঠায়। বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকলে বিশ্বের যে ৪১টি দেশে ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করা যায়, তার মধ্যে টোগো একটি।
আফ্রিকা মহাদেশের এই দেশে যাবার পর বুঝতে পারেন তার আর ইতালি যাওয়া হবে না। পরে জীবনের ঝুকি নিয়ে দেশে ফেরেন সাইদুর। এখন রাতে ঘুমোতে পারেন না বাড়িতে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, ২০১২ সালের মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে ২০১২ থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত পাঁচ হাজার ৭৩৮টি মামলা হয়েছে।
মামলার তথ্যানুযায়ী, ১০ হাজারের বেশি মানুষ পাচারের শিকার। কিন্তু পাঁচ হাজার ৭৩৮টি মামলার মধ্যে গত নয় বছরে মাত্র ২৮২টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে।
পুলিশ বলছে, রাশিয়া, ভারত, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ইরান ও লিবিয়াসহ কয়েকটি দেশে মানবপাচার হচ্ছে। তবে বেশিরভাগই হচ্ছে স্বেচ্ছায়।
তাই, প্রান্তিক পর্যায়ে মানুষের মধ্যে মানব পাচার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো ও বৈধ পথে অভিবাসনে উৎসাহ বাড়ানোর তাগাদা দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
একাত্তর/এআর
