নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে তাতে ভোগান্তি বেড়েছে নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির। আর চরম সংকটে পড়েছে বস্তিবাসী ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা।
এই পরিস্থিতিতে প্রতিদিনই বড় হচ্ছে টিসিবি ট্রাকের সামনে মানুষের লাইন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও পণ্য কিনতে পারছেন না তারা।
এদিকে ট্রাক কবে, কখন ও কোথায় থাকবে- নেই তথ্যও মিলে না সাধারণের কাছে। তাই দাবি উঠেছে, কম আয়ের মানুষদের কথা ভেবে পণ্যের পরিমাণ বাড়াতে উচিত।
টিসিবির পণ্য কিনতে এখন রাজধানীতে প্রতিদিনই চোখে পড়ে মানুষের হুড়োহুড়ি। সকাল থেকেই তীর্থের কাকের মতো টিসিবির ট্রাকের জন্য চলে অপেক্ষা।
যখনই ট্রাক এসে পৌছায় তখনই একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়েন নগরীর দরিদ্র মানুষরা। দাম বাড়ায় তেল-চিনি-ডালসহ নিত্যপণ্য কিনতে বেহাল দরিদ্র মানুষদের।
দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকের কপাল বেয়ে ঘাম পড়ে। তবুও লাইন ছেড়ে ছায়ায় একটু জিরিয়ে নিচ্ছে না কেউ। ভয় পাছে জায়গাটা কেউ দখল করে ফেলে!

একটু কম দামে টিসিবির তেল-চিনি-ডাল পাওয়াটাও যেন তাদের ভাগ্যের ব্যাপার। করোনার ধাক্কা অনেক মধ্যবিত্তকেও টেনে এনেছে ট্রাকের লাইনে। ফলে দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে লাইন।
লাইন দীর্ঘ হলেও পণ্যের পরিমাণ বাড়ছে না টিসিবির ট্রাকে। এতোদিন প্রতি ট্রাকে ৬০০ লিটার সয়াবিন তেল বরাদ্দ থাকলেও শুক্রবার সেটি কমে হয় ৫০০ লিটার।
জুটবে মাত্র ২৫০ জনের ভাগ্যে। চিনি আর মসুর ডালও ৪০০ কেজি করে। পণ্য কম তাই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও খালি হাতে ফিরতে হয় অনেককে।
দ্রব্যমূল্যের চাপে পিষ্ট এসব মানুষের চাওয়া, কমপক্ষে তেল-চিনি-ডালটা যেন পান তারা টিসিবি থেকে। সেই সঙ্গে পণ্যের পরিমাণ বাড়ানোর দাবিও আছে তাদের।
এদিকে টিসিবি’র চলতিমাসের পণ্য বিক্রি কার্যক্রম চার দিন বাড়িয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা হলেও সে তথ্য জানেন না অধিকাংশ মানুষ।
সারাদেশে প্রায় সাড়ে ৪০০ ট্রাক নিয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি পণ্য বিপণন শুরু করে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ- টিসিবি।
