ইন-পন্ড রেসওয়ে সিস্টেম, সংক্ষেপে ‘আইপিআরএস’। যুক্তরাষ্ট্রে উদ্ভাবিত মাছ চাষের সর্বাধুনিক একটি প্রযুক্তি। এতে ছোট পুকুরে বেশি মাছ চাষ করা যায়।
এই প্রযুক্তিতে ৬০০ একর পুকুরের মাছ চাষ করা সম্ভব ৬০ একরের পুকুরে। উৎপাদন খরচও কম। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশেও মাছ চাষের সর্বাধুনিক এই প্রযুক্তির ব্যবহার চালু হয়েছে।
৭২ ফুট লম্বা আর ১৬ ফুট চওড়া একটি চৌবাচ্চায় মাছ উৎপাদন হয় প্রায় ৩০ টন। একই পরিমাণ মাছ স্বাভাবিক পুকুরে উৎপাদন করতে দরকার সাড়ে পাঁচ একরের পুকুর।
রুই, তেলাপিয়া, গ্লাসকার্প, মাগুর সব জাতের মাছই চাষ করা সম্ভব এই ছোট্ট চৌবাচ্চায়। আর সেটি সম্ভব হচ্ছে ইন-পন্ড রেসওয়ে সিস্টেম বা আইপিআরএস প্রযুক্তিতে।
এই প্রযুক্তিতে বড় আকারের পুকুরে কংক্রিটের ছোট ছোট চ্যানেল তৈরি করা হয়। সেখানে কৃত্রিম স্রোত তৈরি করে অনেকটা নদী বা প্রাকৃতিক জলাশয়ের মতো পরিবেশ তৈরি হয়।
পানির প্রবাহ থাকায় মাছের বৃদ্ধিও বেশি। স্বাভাবিক পদ্ধতিতে এক কেজি মাছের জন্য খাবার লাগে দেড় কেজি। এ পদ্ধতিতে লাগে সাড়ে আটশ’ গ্রাম।
মাত্র বছর দুয়েক হলো বাংলাদেশে এই প্রযুক্তিতে মাছের চাষাবাদ শুরু হয়েছে। তেমনই একজন উদ্যোক্তা মো: শামসুল কবির। যিনি ওয়ার্ল্ডফিশ নামের প্রতিষ্ঠানের ডেপুটি চিফ অফ পার্টি।
আরও পড়ুন: হাতি নিয়ে ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে বনভোজন
তিনি জানান, চ্যানেলের মধ্যে থাকা মাছগুলো স্রোতে ক্রমাগত সাঁতার কাটতে থাকে এবং এতে করে অনেকটা নদীর মতো পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
আবার সাধারণ পুকুরে পানি পরিশোধনের জন্য প্রতি বছরই চুন, লবণ, জীবাণুনাশক ব্যবহার করে পরিষ্কার করতে হয়।
এই পদ্ধতিতে পাঁচ বছর পর পানি পরিশোধন করতে হবে। সাধারণ পুকুরে মাছের মৃত্যু হার ১৫ শতাংশ হলেও এই পদ্ধতিতে পাঁচ শতাংশের কম।
যশোর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার মো: আবুল হাসান জানান, নদীর মতো পরিবেশ পাওয়ার কারণে আইপিআরএস পদ্ধতিতে উৎপাদিত মাছের স্বাদ নদীর মাছের মতোই হয়।
দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ইউএসএইড-এর আর্থিক সহায়তায় আইপিআরএস পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করেছে আফিল হ্যাচারি।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ আফিল উদ্দিন বলেন, এই পদ্ধতিতে মাছের উৎপাদন অনেক বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানির নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।
সেই সঙ্গে দেশের আমিষের চাহিদা মেটাতে আইপিআরএস পদ্ধতি বড় ভূমিকা রাখবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
