বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র ফাইয়াজ মোহাম্মদএকান্তের মোবাইল ফোনে শাহরিয়ার ইসলাম সামিরের পরিকল্পনায় স্কুলটির শিক্ষক হৃদয় চন্দ্রমন্ডলের নেয়া বিজ্ঞান ক্লাসের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরা সেই অডিও রেকর্ডে শিক্ষক হৃদয় চন্দ্রমন্ডল ছাড়াও কয়েকজন ছাত্রের কন্ঠ শোনা যায়। একাত্তরের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ছাত্রদেরপরিচয়।
তারা একাত্তরের কাছে বলছেন, মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বিনোদপুর রামকুমারউচ্চ বিদ্যালয়ের আরেক বিজ্ঞান শিক্ষক তাজরিয়ান শিকদার ও ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্যমাহবুব হোসেনের সাথে সেদিন তাদের পরামর্শ হয়েছিলো- তাদের কি করতে হবে।
আলোচিত সেই অডিও রেকর্ডে যাদের কন্ঠ শোনা যাচ্ছে, মুন্সিগঞ্জের পঞ্চস্বরেছাত্র, শিক্ষক এবং কেচিং সেন্টারে অনুসন্ধান করে তাদের দেখা পাওয়া গেলো।
সেই বিজ্ঞান ক্লাসে একের পর এক প্রশ্ন করা সামির জানায়, তার মাথাতেইপ্রথম স্যারের কথা রেকর্ড করার আইডিয়া আসে।
রেকর্ডেও শোনা যায়, পদার্থ বিষয়ে পাঠদানের ফাঁকে ধর্ম নিয়ে একের পরএক প্রশ্ন উস্কে দিচ্ছিল এই ছাত্র। শিক্ষকের জন্য অবমাননাকর মিছিলেও তাদের দেখতে পাওয়াযায়।
ছাত্রদের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের আলাপের সময় সেখানে মোটরসাইকেলে বারবারতাদের ঘিরে চক্কর দেয়া এক ব্যক্তির পরিচয় মিললো- তাজরিয়ান শিকদার নাইম; যিনি সেই রামকুমারউচ্চ বিদ্যালয়ের আরেকজন বিজ্ঞান শিক্ষক। তার মতে হৃদয় চন্দ্রের ক্লাসে ফেরা সহজ হবেনা।
এই শিক্ষক আর স্কুলের উল্টোপাশের চালের আড়তের মালিক এবং ম্যানেজিংকমিটির সাবেক অভিভাবক সদস্য মাহবুব হোসেনের সঙ্গে সেদিন শিক্ষার্থী হৃদয়-সামিররা বক্তব্যরেকর্ড করার বিষয়টি নিয়ে পরামর্শ করেছিলো।
স্কুলটিতে তিন প্রজন্ম ধরে পড়ালেখা করছেন বলে মায়াটা বেশি বলে জানালেনমাহবুব হোসেন। যদিও তার আড়ত থেকে সেদিন সব দেখেও এক পাও এগুননি তিনি।
এদিকে, বিনোদপুর রাম কুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিতও বিজ্ঞান শিক্ষক হৃদয় মন্ডল কারাগারে যাবার পর থেকে চরম নিরাপত্তাহীনতাও অনিশ্চয়তায় কাটছে তার পরিবারের রাত দিন।
তবে হৃদয় মন্ডলের স্ত্রী ববিতা হাওলাদার দাবি করেছেন, হঠাৎ করে কিছুহয়নি। তাদের ধারণা- স্কুলের কোয়ার্টার ব্যবহার আর অংক বিজ্ঞানের জনপ্রিয় শিক্ষক হিসাবেকয়েক ব্যাচ করে ছাত্র পড়ানোর দক্ষতাই তৈরি করেছে শত্রু।
এই পরিবারের দুই সন্তানের বড় জন ১২ বছরের শ্রেষ্ঠ মন্ডলের চোখের সামনেসেই দিন বাড়িতে তান্ডব চলেছে। গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তার বাবাকে।
এদিকে, শিক্ষক গ্রেপ্তারের দুই সপ্তাহ পরেও পরিকল্পনাকারীদের শনাক্তকরতে পুলিশের তদন্ত কাজের কোনো অগ্রগতির কথা জানাতে পারেনি কেউ।
গত ২০ মার্চ বিজ্ঞান ক্লাসে পাঠদানের পর উত্তেজনা ছড়িয়ে ধর্ম অবমাননারঅভিযোগ আনা হয় হৃদয় চন্দ্র মন্ডলের বিরুদ্ধে।
উল্লেখ্য, গত ২২ মার্চ রাত সাড়ে ১০টায় হৃদয় মন্ডলেরবিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, ধর্মীয় বিশ্বাসকে অপমান করা ও ধর্মীয়গ্রন্থের অবমাননার অভিযোগ এনে মামলা করেন একই স্কুলের অফিস সহকারী মো. আসাদ মিয়াঁ।
এরপর শিক্ষক হৃদয় মন্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়।মুন্সিগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গত ২৮ মার্চ ও ৪ এপ্রিল তার জামিন আবেদনকরা হলেও আদালত নাকচ করেন সেই আবেদন। ১০ এপ্রিল জামিন শুনানির দিন ধার্য হয়েছে।
একাত্তর/এসএ
