লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় নাজিম সর্দার (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহতসহ চারজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) গভীর রাতে চররমনী মোহন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে সদর থানায় একটি মামলা করলে এজহারভুক্ত আসামি আরিফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীরা জানান, বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) মধ্য চররমনী মোহন বেদেপল্লির আক্কাছ সর্দারের মেয়ে নূপুরকে (১৮) গোপনে বিয়ে করেন একই এলাকার গোলাপ সর্দারের ছেলে মো. আরিফ (২২)। বিয়ের ঘটনাটি জানাজানি হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে নূপুরের পরিবারের ওপর হামলা করেন বরের পিতা মো. গোলাপ সর্দার।
মামলার বাদী (আনোয়ারা বেগম) জানান, কয়েক বছর আগে তার নাতনি নূপুরকে নৌকায় ধর্ষণের চেষ্টা করেন গোলাপ সর্দারের ছেলে আরিফ। এ ঘটনায় মামলা হয়ে তিন বছরের সাজা হয় আরিফের। সেই থেকে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।
সম্প্রতি হাইকোর্ট থেকে জামিনে এসে মামলা থেকে রেহাই পেতে গোপনে নূপুরের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন আরিফ। এক পর্যায়ে তারা গোপনে বিয়ে করেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় ক্ষিপ্ত হন আরিফের পিতা গোলাপ সর্দার।
বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১টার দিকে গোলাপ সর্দার তার পরিবারের ৭-৮ জনের একটি দল নিয়ে ভুক্তভোগীর বসতঘরের দরজা ভেঙে ঢুকে তাদের এলোপাথাড়ি মারধর করেন।
আরও পড়ুন: হিজাব নিয়ে গুজব ছড়ানোর ঘটনায় দুইজন গ্রেপ্তার
এসময় সবার চিৎকারে নাজিম সর্দার এগিয়ে এলে তাকে মারধর করে আহত করা হয়। স্থানীয় লোকজন বৃদ্ধকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আনোয়ার হোসেন জানান, রাতে নাজিম সর্দারকে তার স্বজনরা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতাল আসার আগেই তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তে তার শরীরে মারধরের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. মমিনুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেছেন। ওই মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
একাত্তর/এসজে
