ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিউ মার্কেটের দোকানকর্মীদের কয়েক দফা সংঘর্ষে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় দুইজন মারা গেলেন।
বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় দোকান কর্মচারী মোরসালিনের (২৬)। এর আগে মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) রাত ৯টা ৪০ মিনিটে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় কুরিয়ার সার্ভিসের ডেলিভারিম্যান নাহিদ হাসানের।
মোরসালিনের শ্যালক ফরহাদ হোসেন জানান, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুরাতন ভবনের জেনারেল আইসিইউর ২৩ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন তিনি।
হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া জানান, মোরসালিনের মাথায় আঘাত থাকায় শুরু থেকেই তার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিলো।
নিহত মোরসালিন কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার কানাইনগর গ্রামের মৃত মানিক মিয়ার ছেলে। তিনি স্ত্রী ও ২ সন্তান নিয়ে কামরাঙ্গীরচর পশ্চিম রসুলপুরে ভাড়া থাকতেন।
তার স্ত্রী অনি আক্তার মিতু গণমাধ্যমকে বলেন, মোরসালিন ঢাকা নিউ সুপার মার্কেটে শার্টের দোকানে চাকরি করতেন। ঘটনার দিন হাসপাতাল থেকে মোবাইলে তার আহত হওয়ার খবর পাই।
তিনি আরো বলেন, ঢাকা মেডিকেলে এসে আমরা তাকে অচেতন অবস্থায় পাই। আমাদের এক মেয়ে হুমায়রা ইসলাম লামহা (৭) ও এক ছেলে আমির হামজা (৪)। ২ ভাই এক বোনের মধ্যে মোরসালিন ছিলেন দ্বিতীয়।
প্রসঙ্গত, সোমবার (১৮ এপ্রিল) রাত ১২টার দিকে নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ শুরু হয়, যা চলে রাত আড়াইটা পর্যন্ত। মধ্যরাতে দুই পক্ষকে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
পরদিন মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) সকাল থেকে নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এসময় ব্যবসায়ীরা সড়কে চলে এলে দ্বিতীয় দফায় শুরু হয় সংঘর্ষ। সকাল সাড়ে ১০টার পর নীলক্ষেত মোড় থেকে সায়েন্সল্যাব পর্যন্ত এলাকায় থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে বেলা ১১টার দিকে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা কলেজের গেটে এবং ব্যবসায়ীরা চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটের সামনের সড়কে অবস্থান নেন।
এরপর ব্যবসায়ীরা নিউমার্কেট, গাউসিয়া মার্কেট, চন্দ্রিমা মার্কেট, চাঁদনী চক, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট এলাকায় জড়ো হয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে।
ব্যবসায়ীদের একটি অংশ সরাসরি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে চলা সম্মুখ লড়াইয়ে অংশে নেয়। আরেকটি অংশ ইট ও পাথর সরবরাহ করে।
এছাড়া দুপুরে ঢাকা কলেজের আবাসিক হল আগামী ৫ মে পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করে বিকেলের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশনা দেয়া হয়।
এর কিছুক্ষণ পরই শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের এ ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেন শিক্ষার্থীরা। হল বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। একইসঙ্গে অধ্যক্ষের অপসারণসহ ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলি চালানোর ঘটনার বিচার দাবিতে স্লোগান দেন।
আরও পড়ুন: অবশেষে সমঝোতা, সকালে খুলছে নিউমার্কেট
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) প্রথম প্রহরে শুরু হয়ে চার ঘণ্টার বৈঠক শেষে সমঝোতা হয়। ফলে এদিন থেকে নিউ মার্কেটসহ ওই এলাকার সব বিপণিকেন্দ্র খোলে। আর ছুটির মধ্যে ছাত্রদের হলে থাকার বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের মহাপরিচালক নেহাল আহমেদ জানান, সৌহাদ্যপূর্ণ পরিবেশে সব পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। ছাত্রদের ১০ দাবি ছিল, তার বেশিরভাগ দাবিই পূরণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
একাত্তর/আরএ
