কিশোর গ্যাংয়ের হামলার কারণে ভেস্তে গেছে রাকিবের এসএসসি পরীক্ষা। লেখাপড়ার বদলে এখন সময় কাটছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিছানায়।
ছোটভাই-বড়ভাই দ্বন্দ্বে ২৩ সেপ্টেম্বর মিরপুর ১৩ নম্বরে রাকিবের ওপর হামলা চালায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। মামলার পর, পাঁচ কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
২৩ সেপ্টেম্বরের একটি সিসিটিভি ছবিতে দেখা যাচ্ছে রাজধানীর মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ১১ নম্বর সড়কে মাগরেবের নামাজ পড়ে বাসায় ফিরছিলো রাকিবুল হাসান।
এ সময় তাকে ঘিরে ধরে একই এলাকার রমজান ও তার সহযোগীরা। এক পর্যায়ে রাকিবের সাথে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
এ সময় ধারালো কিছু দিয়ে রাকিবকে আঘাত করে রমজান। সাথে সাথেই সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে রাকিবকে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়।
হামলার পর আর রাকিবের আর এসএসসি পরীক্ষা দেয়া হয়নি। এখনও সে ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসা নিচ্ছে।
এই ঘটনায় কিশোর গ্যাংগ সদস্য রমজান, আমীন, বিজয়, ছোট রমজান,পপকন, হাসিবসহ অজ্ঞাত বেশ কজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা করেন রাকিবের বাবা আব্দুল্লাহ।
এদের মধ্যে পল্লবীতে এসএসসি পরীক্ষার্থী রাকিবকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় কিশোর গ্যাং লিডার রমজান ও আলামিনসহ পাঁচজকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।

বৃহস্পতিবার রাতে যশোর, ঝালকাঠি, আশুলিয়া এবং রাজধানীর মিরপুর ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে র্যাব।
র্যাব জানায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর মিরপুর-১২ নম্বর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সিনিয়র গ্রুপের সদস্যদের জুনিয়র গ্রুপের সদস্যরা সালাম না দেয়া নিয়ে শুরু হয় দ্বন্দ্ব।
শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৪ এর অধিনায়ক মোজ্জাম্মেল হক জানান, জুনিয়র গ্রুপের কিশোর গ্যাং লিডার হচ্ছে রমজান।
আরও পড়ুন: দুই এনআইডি আর তুঘলকি কাণ্ডে কোটিপতি সবুজ মিয়া
কিছুদিন আগে রমজান, আলামিন, পাপনসহ একটা জায়গায় ধূমপান করছিল। তার পাশ দিয়ে সিনিয়র গ্রুপ যাচ্ছিলো। তখন কেন তাদের সালাম দেয়া হলো না এটা নিয়ে জুনিয়র গ্রুপের সদস্যদের মারধর করা হয়।
তিনি জানান, প্রতিটি কিশোর গ্যাংগের পেছনে কিছু মদতদাতার ইন্ধন থাকে। এবার সেসব মদত দাতাদের ধরতে অভিযান চালাবে র্যাব।
একাত্তর/এসি
