আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যে শেষ হতে যাচ্ছে সরকারের কাছে মজুত থাকা করোনা টিকার মেয়াদ। তার আগেই প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বা বুস্টার ডোজ হিসেবে পাওয়া টিকাগুলোর প্রয়োগের কাজ শেষ করতে চায় স্বাস্থ্য বিভাগ।
তাই এখনও এক ডোজও টিকা গ্রহণ করেননি, এমন মানুষদের টিকা নেয়ার আহবান জানিয়েছেন সম্প্রসারিত টিকা কর্মসূচি- ইপিআই'র কর্মকর্তারা।
হাসপাতালের টিকা কেন্দ্রগুলোতে আগের মত আর ভিড় নেই। সহজেই মিলছে টিকা। কর্তৃপক্ষ বলছে ঢাকার বাসিন্দাদের বেশিরভাগই টিকা নিয়েছেন। তাই ভিড় কমে গেছে। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনেন টিকা কেন্দ্রগুলোতেও একই চিত্র।
পরিসংখ্যান বলছে, দেশে মোট টিকা এসেছে প্রায় ৩৩ কোটি। প্রথম ডোজ নিয়েছেন ১৩ কোটি ২০ লাখ। দ্বিতীয় ডোজ ১২ কোটি ৩৮ লাখ। বুস্টার বা তৃতীয় ডোজ নিয়েছেন প্রায় ৬ কোটি। টিকা গ্রহণের হার হিসেবে প্রথম ডোজ প্রায় ৯৮ শতাংশ।
দ্বিতীয় ডোজ প্রায় ৯৩ শতাংশ। আর তৃতীয় বা বুস্টার ডোজ প্রায় ৫০ শতাংশ। তবে এখনি শেষ হচ্ছেনা প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেওয়া।
কোভিড-১৯ টাস্কফোর্সের ওয়েবসাইট বলছে, বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে টিকাদানে এগিয়ে আছে। এ দেশের ৭১ দশমিক ৫৮ শতাংশ মানুষ দুই ডোজ টিকা পেয়েছেন।
ভারতে হারটি প্রায় ৬৭ শতাংশ, পাকিস্তানে প্রায় ৫৭ শতাংশ ও নেপালে প্রায় ৭০ শতাংশ। মিয়ানমারের ৫১ শতাংশ মানুষ দুই ডোজ টিকা পেয়েছেন।
বাংলাদেশ চারটি উৎস থেকে টিকা পেয়েছে। এর মধ্যে বড় অংশ কেনা। কিছু টিকা উপহার এবং বাকিগুলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোভ্যাক্স সুবিধার আওতায় অনুদান হিসাবে পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় উপ নির্বাচন: নৌকা ছাড়া সব প্রার্থীর ভোট বর্জন
দেশে মজুদ থাকা পৌনে দুই কোটি টিকার মেয়াদ শেষ হচ্ছে নতুন বছরের জানুয়ারিতে। তাই এই সময়ের মধ্যেই বাদ পড়াদের প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিতে বলছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
তবে মজুত থাকা টিকা শেষ হলে এবং নতুন টিকার চালান দেশে এলে সেটি আগের মতো বিনামূল্যে দেয়া হবে, নাকি টাকা দিয়ে কিনতে হবে সেই সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
একাত্তর/এসি
