ঢাকার নতুন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:১৫ পিএম

ঢাকা জেলার নতুন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মোহাম্মদ মমিনুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ঢাকা জেলার প্রশাসক শহিদুল ইসলামের পদোন্নতির পর তার স্থলে মোহাম্মদ মমিনুর রহমানকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি এর আগে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

গত ২৩ নভেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ভাস্কর দেবনাথ বাপ্পি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ২৩ জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম থেকে মোহাম্মদ মমিনুর রহমানকে ঢাকা জেলায় বদলি করা হয়।

১৯৭৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন অত্যন্ত মেধাবী সৎ, সাহসী,  চৌকস একজন দেশপ্রেমিক জনাব মোহাম্মদ মমিনুর রহমান। তার পিতা মোহাম্মদ কামালুর রহমান, গফরগাঁও খায়রুল্লাহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং মাতা রওশন আরা একই বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক ছিলেন।  

জনাব মোহাম্মদ মমিনুর রহমান ঢাকা বিশ্ববদ্যালয় থেকে ইংরেজী সাহিত্যে ১৯৯৫ সালে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৯৬ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন ক্যাডারের ২২তম ব্যাচে প্রথমস্থান অধিকার করেন। তিনি ১০ ডিসেম্বর, ২০০৩ সালে সহকারী কমিশনার (শিক্ষানবিশ) হিসেবে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, রাজশাহীতে যোগদান করেন। 

পরবর্তীতে তিনি জেলা প্রশাসকেরে কার্যালয়, রাজশাহীতে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে প্রশাসন ক্যাডারের যাত্রা শুরু করেন। 

২০০৭ সালে তিনি মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন। এরপর তিনি বিসিএস প্রশাসন একাডেমী, শাহবাগ, ঢাকায় সহকারী পরিচালক হিসেবে পদায়িত হন। 

২০০৯ সালে তিনি উচ্চ শিক্ষার্থে বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাজ্য গমন করেন। সেখানে তিনি মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। দেশে ফিরে ২০১০ সাল থেকে ২০১৩ পর্যন্ত উপপরিচালক হিসেবে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমিতে দায়িত্ব পালন করেন। 

২০১২ সালে তিনি থাইল্যান্ডে লিডারশীপ ইন দ্যা সিভিল সার্ভিস কোর্স এবং ২০১৪ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত মিড ক্যারিয়ার ট্রেইনিং কোর ফিল্ড এডমিনিস্ট্রেশন কোর্সে অংশগ্রহণ করেন।

১১ জানুয়ারি ২০১৫ হতে ২১ এপ্রিল ২০১৭ পর্যন্ত গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ২৩ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে উপ-সচিব হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন-নিরাপত্তা বিভাগে যোগদান করে ১০ মে, ২০১৭ খ্রি. পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। ১১ মে, ২০১৭ হতে ৩১ ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রি. পর্যন্ত তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

জনাব মোহাম্মদ মমিনুর রহমান জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে  ১৭ ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রি. তারিখে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম জেলায় পদায়িত হয়ে ০৩ জানুয়ারি, ২০২১ খ্রি. তারিখে চট্টগ্রাম জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করেন। 

২৩ শে নভেম্বর ২০২২ তারিখে রাজধানী ঢাকার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পদায়িত হন। এবং ৬ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রি. তারিখ পর্যন্ত সাফল্যের সাথে চট্টগ্রাম জেলায় জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

ব্যক্তিগত জীবনে জনাব মোহাম্মদ মমিনুর রহমান এবং স্ত্রী  রাবেয়া নাহার চেরী তিন ছেলের জনক-জননী।

অনেস্ট, হার্ড ওয়ার্কিং এবং ট্রান্সপারেন্ট অফিসার এই তিন শব্দের প্রতিচ্ছবি যেন ডিসি মমিনুর রহমান। তিনি চট্টগ্রামের দিনমজুর, কৃষক-শ্রমিক মুক্তিযোদ্ধাসহ সকলের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছেন। দুর্নীতিবাজ রাঘব বোয়ালদেরকে গ্রেপ্তার করেছেন। করেছেন হাজার কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত। 

এছাড়াও কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধকল্পে গৃহীত যুগোপযোগী পদক্ষেপ, সীতাকুন্ডে বিএম কন্টেইনার ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে হতাহত পরিবারগুলোকে আর্থিক ও মানসিক সাপোর্ট প্রদান করা, সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২১৭ জন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ এবং চট্টগ্রামে জেলায় বাস্তবায়নযোগ্য ১০ টি চলমান প্রকল্প যেমন: মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘর, সমন্বিত সাকারী অফিস কমপ্লেক্স, হাটহাজারী পৌরসভা বাইপাস সড়ক, বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর, মীরসরাই হতে বে-টার্মিনাল, চট্টগ্রাম পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে, শাহ আমানত বিমানবন্দর এবং বে-টার্মিনাল এ বঙ্গবন্ধু শেখ  মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব এর দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য নির্মাণ, গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত পর্যটন স্পট, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের অনুকূলে চট্টগ্রাম জেলায় শ্যুটিং স্পট নির্মাণ, আশ্রয়ণ প্রকল্পসমূহে স্বপ্নযাত্রা প্রাথমিক বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম কালেক্টরেট স্কুল, বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন স্মৃতি জাদুঘর  সহ আরো বিভিন্ন কর্মকান্ডের কারণেই তিনি সর্বমহলে প্রশংসিত এবং সুনাম কুড়িয়েছেন। 

জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান চট্টগ্রাম জেলার পাহাড়খেকো, ভূমিদস্যুদের কাছ থেকে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার মূল্যবান খাসজমি উদ্ধার করেছেন। বর্তমানে সীতাকুন্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরের প্রায় আট হাজার কোটি টাকা মূল্যের ৩১০০ একর সরকারি খাসজমি উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চট্টগ্রামের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে এখানে নাইট-সাফারি পার্কসহ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে। যুগ যুগ ধরে দখলে থাকা এসব সম্পত্তি উদ্ধার করার কারণেই তার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রও করেছে প্রভাবশালীরা। 

image


চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পর থেকে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন মমিনুর রহমান । ছদ্মবেশে তিনি বিভিন্ন উপজেলা, সার্কেল ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোতে আকস্মিক পরিদর্শন করেন। দ্রুত অভিযান চালিয়ে ভূমি অফিসের দালালদের বিরুদ্ধে জেলহাজতসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন তিনি। এসব অফিসের ১৮৩ জন উমেদারকে বের করে দেওয়ার পাশাপাশি দুর্নীতির দায়ে কয়েকজন ভূমি সহকারী, উপসহকারী কর্মকর্তা ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর বিরুদ্ধেও বিভাগীয় মামলা দিয়েছেন। 

এ ছাড়া সরকারি অফিসগুলোতে দালালদের দৌরাত্ম্য রোধ, সার্বিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ অধীনস্থ সব কার্যালয়ে সর্বাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।  

শুধু তাই নয়, চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরীর পাহাড় থেকে দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছেন তিনি। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশ থেকে ৫৮৭টি অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করেছেন। ২০২০ সালের ৮ ডিসেম্বর উত্তর কাট্টলী মৌজার প্রায় ৩০ একর জায়গা নিয়ে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ করে অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এ স্থানটিকে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘর নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে। ইতোমধ্যে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘরের নকশা চূড়ান্ত হয়ে ডিপিপি প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছে।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রাম থেকে যুক্ত থাকা যাত্রা মোহন সেনের মহামূল্যবান বাড়িটি উদ্ধার ও সংরক্ষণেও ভূমিকা রয়েছে ডিসি মমিনুরের। ভূমিদস্যুরা বাড়িটি ভেঙে দখল করার অপচেষ্টা চালালে জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ও সুশীল সমাজের হস্থক্ষেপে ঐতিহাসিক এই বাড়ি দখলমুক্ত করেন। বর্তমানে বাড়িটি সংরক্ষণ করে বিপ্লবী জাদুঘর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার কার্যক্রম চলছে। 

image


এদিকে, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উপজেলা, জেলা ও বিভাগ পর্যায়ে সরকারি অফিসের জন্য পরিকল্পিত ও সমন্বিত অফিস ভবন নির্মাণের তাগিদ দিলে শুরুতেই তৎপর হয়ে ওঠেন ডিসি মমিনুর রহমান। চট্টগ্রাম জেলার চান্দগাঁও (বন্দর) মৌজায় ৭৩.৪২ একর খাসজমিতে চট্টগ্রামের বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে সরকারি অফিসের জন্য বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ এবং সুপরিকল্পিত সমন্বিত সরকারি অফিস কমপ্লেক্স নির্মাণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি। কর্ণফুলী নদীর পাড়ে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে একই স্থানে সরকারি অফিস আধুনিক নগরায়ণের প্রকৃষ্ট উদাহরণ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পর্যটনের বিকাশেও ভূমিকা রয়েছে তার। দেশজুড়ে পরিচিত পাওয়া সীতাকুন্ডের গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতে যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ, সেখানে ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ এবং বিচটিকে সংরক্ষিত পর্যটন জোন হিসেবে গেজেটভুক্ত করার উদ্যোগ নেন তিনি।

চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসনের নিজস্ব পরিচালনায় ও সরাসরি তত্ত্বাবধানে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবং ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য সুষ্ঠু যুগপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের সরাসরি পরিচালনায় একটি আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কথা মাথায় আসে তার। এরই ফলে কালেক্টরেট স্কুলের শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী বছর থেকে শিক্ষার্থী ভতির্ প্রক্রিয়া শুরু হবে। পূর্ব নাছিরাবাদ মৌজায় অবস্থিত একটি এপিএমবি বোর্ড কর্তৃক বরাদ্দকৃত ভবনে স্কুলের কার্যক্রম শুরু হবে।

প্রায় এক যুগ ধরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কোনো নতুন নিয়োগ না হওয়ায় কার্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছিল। তার উদ্যোগে ২১৭ জন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে। এমনকি চাকরির পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে আসা ১৩ জন অপরাধীকেও জেল জড়িমানা করা হয়। বর্তমানে আরো ৪৭ জন নতুন কর্মচারী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। 

শুধু তা-ই নয়, নবনিযুক্ত কর্মচারীদের মাসব্যাপী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন তিনি। সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সর্বস্থরের সেবাগ্রহীতার সঙ্গে সদ্ব্যবহারের দৃষ্টান্তও রয়েছে তার। চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার জন্য গাড়ি ক্রয় এবং নতুন প্রাণী সংগ্রহের জন্য দুই থেকে পাঁচ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করেন।

কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধ, ভেজালবিরোধী অভিযান ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে মহানগর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট করা হয়েছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে তিনজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়মিতভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন। ৩০০ জন ভলান্টিয়ারকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রশিক্ষিত করে তোলা হয়েছে। এরা করোনাকালীন দুর্যোগে জেলা প্রশাসন কর্তৃক সহায়তা কার্যক্রমে নিরলসভাবে কাজ করেছে এবং বর্তমানেও সমাজের বিভিন্ন ক্রান্তিকালে জেলা প্রশাসনকে সহায়তা করছে। 

image


মানবিক কর্মকান্ডেও এগিয়ে রয়েছেন তিনি। চলতি বছরের ৪ জুন রাতে সীতাকুন্ডে বিএম কন্টেইনার ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে হতাহত পরিবারগুলোর পাশে ছিলেন জেলা প্রশাসক। এ দুর্ঘটনায় নিহত ৫১ জন, ৯৯ জন গুরুতর আহতসহ প্রত্যেক হতাহতের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে আর্থিক সহায়তা করে জেলা প্রশাসন। এছাড়াও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে  জেলা প্রশাসনের সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করা হয় যেখান থেকে সার্বক্ষনিকভাবে হতাহতদের খাদ্য , পানীয় এবং যাবতীয় ঔষধ দিয়ে সহায়তা করা হয়। পাহাড় ধসের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর ও সার্বিক ব্যবস্থপনার জন্যও জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। 

এছাড়াও জমকালো আয়োজনে অবিভাবকহীন তিন কন্যারও ( মর্জিনা, মুক্তা ও তানিয়া ) বিয়ে দেন জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান। 

তাছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর ফার্স্ট প্রায়োরেটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে ইতোমধ্যে ভূমিহীন এবং গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দকৃত ৫০৪৩ টি গৃহ হতে ৩৪৯৬ টি গৃহ নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে যার মধ্যে থেকে ডিসি মমিনুর রহমানের দক্ষ ম্যানেজমেন্টে ইতোমধ্যেই অধিকাংশই ঘর হস্থান্তর করা হয়েছে।

মমিনুর রহমান এর নির্দেশেই জেলা প্রশাসনের ৫০ জন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের অধীনে ৫০ জনসহ মোট ৮০০ জনের ‘এনভায়রনমেন্টাল কনজারভেশন অ্যান্ড ডিজাস্টার রেসপন্স টিম’ গঠন করা হয়েছে।  এ টিমের সদস্যদের বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য প্রশিক্ষিত করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্পমূল্যে বিআরটিসি বাসের ব্যবস্থা করেছেন। চট্টগ্রামে হার্ট-ফাউন্ডেশন হাসপাতাল চালুকরণে সহায়তা করেছেন তিনি। 

এ ছাড়া  নতুন বালুমহাল ঘোষণা করে অবৈধ বালু ও মাটি কাটা বন্ধ করা, হালদা নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষার্থে সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ, ডলু আশ্রয়ণ প্রকল্পে স্কুল, মসজিদ, মন্দির, কমিউনিটি সেন্টার এবং পুকুর নির্মাণ, পতেঙ্গা সি বিচ, আনোয়ারা সি বিচ, গুলিয়াখালী সি বিচকে বিচ ম্যানেজমন্ট কমিটির মাধ্যমে তত্ত্বাবধান করা, নতুন শিল্পকলা একাডেমি ও শিশু একাডেমি ভবন নির্মাণের উদ্যোগ, হিজড়া ও বেদে সম্প্রদায়ের বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন। 

২৬ শে মার্চ ২০২১ চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় হেফাজতে ইসলামের তান্ডবে জান-মাল রক্ষার্থে জেলা প্রশাসক জনাব মমিনুর রহমানের কঠোর হস্তক্ষেপে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ফলে হেফাজতে ইসলাম পরবর্তীতে কোন ধরনের সংঘর্ষে লিপ্ত হতে পারেনি। এবং তার অব্যহত নজরদারীতে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে।

১৭ ই এপ্রিল ২০২১ বাশখালী উপজেলায় গন্ডামারা এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট এ চায়না ও বাংলাদেশী শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোস ও সংঘর্ষ হওয়ার ফলে ৭ জন শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় সেখানকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। চৌকস জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমানের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। 

২০২১ সালে দুর্গাপূজায় কিছু সাম্প্রদায়িক স্বার্থন্বেশী মহল পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমানের দক্ষ নেতৃত্তে সনাতন ধর্মালম্বীদের মধ্যে ধর্মীয়ভাব গাম্ভীর্যতার মধ্য দিয়ে তিনি আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে দূর্গাপুজা সফলভাবে সমাপ্ত করেন।    

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন কালে মোহাম্মদ মমিনুর রহমান প্রমাণ করেছেন কর্মদক্ষতা, বিচক্ষণতা, প্রত্যুতপূণ্যমদুতা, সাহসীকতা, সততা, আন্তরিকতা, এবং সর্বপরি দেশ প্রেম ও সকলের প্রতি মমত্যবোধ থাকলে একজন সরকারী আমলা গণ মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠে। মোহাম্মদ মমিনুর রহমান ছিলেন তার অধিনস্থ সকল কর্মকর্তা, কর্মচারীদের অভিভাবক। 

জেলা প্রশাসক হিসেবে তার বিদায়ের ক্ষণে চট্টগ্রামবাসী হারাচ্ছে একজন সৎ, সাহসী ও দেশপ্রেমিক আমলাকে, আর তার সহকর্মীরা হারাচ্ছে বটবৃক্ষের মত টিন জেলা প্রশাসন চট্টগ্রামকে নেতৃত্য দেওয়া একজন দায়িত্বশীল অভিভাবককে। জনাব মোহাম্মদ মমিনুর রহমান তারকর্ম পরিধি দিয়ে চট্টগ্রামের সর্বস্থরের মানুষের কাছে বেঁচে থাকবেন আজীবন একজন লিজেন্ড ও মানবিক জেলা প্রশাসক হিসেবে। 


একাত্তর/এআর

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ১৫ আগস্ট তারিখে হামদর্দ ল্যাবরেটরীজ (ওয়াক্ফ) বাংলাদেশ এর উদ্যোগে আয়োজিত ফ্রি...
একাত্তর টেলিভিশনের ক্যামেরাপার্সন আলম হোসেনের পিতা ও স্ত্রীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একাত্তর পরিবারের সদস্য আলম হোসেনের বাবা জয়নাল আবেদিন...
কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের ৪২তম সভা মঙ্গলবার ঢাকার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ ও কমিউনিটি ব্যাংকের...
খুলনার স্যার ইকবাল রোডে (কালীবাড়ি রোড) কমিউনিটি ব্যাংকের একটি উপ-শাখা উদ্বোধন করা হয়েছে।বুধবার খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান ভূঞা ফিতা কেটে ও ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে উপ-শাখাটির...
মেহেরপুর শহরে একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে শিশুসহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন।
হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা) সারাদেশে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার আটজন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং মুক্তকণ্ঠে কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই বিএনপির জন্ম হয়েছে এবং দলের...
সম্প্রতি শেষ হওয়া আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টকে ঘিরে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শাওমি বাংলাদেশে তাদের স্মার্ট টিভি সিরিজের বিক্রিতে ও ক্রেতাদের আগ্রহে ব্যাপক সাড়া পেয়েছে।
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর