শুধু ভালো কাজেই নয়, হিসাবের স্বচ্ছতার পরীক্ষায়ও শতভাগ নাম্বার পেতে চায় বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান- বিদ্যানন্দ। কেবল প্রতিষ্ঠান নয়, স্বচ্ছতার জন্য সব কর্মীর আয়-ব্যয়ের হিসাবও যে কাউকে দিয়ে যাচাই করার চ্যালেঞ্জ নিতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
বিদ্যানন্দ জানিয়েছে, ব্যক্তিগত নামে নয়, জমি আছে ফাউন্ডেশনের নামে। পাহাড়ের জমির দানপত্রে লেখা আছে, সেবামূলক কাজ না করলে এই দানপত্র বাতিল হবে।
পল্লবীর গলির দুই ধারের বাড়ির কোথায় কে বসে ফেসবুকে কার পিন্ডি চটকাচ্ছে তা জানা নেই সুফিয়ার। তবে তিনি জানেন, ইফতারের সময় এই বাড়ি থেকেই খাবার আসবে।
ট্রাক থেকে নামানো হচ্ছিলো ইফতারের পন্য। যারা এমন পণ্য দেন তাদের দেওয়া ডিম চালের হিসাব রাখা আছে লেজার বুকে। কিন্তু নগদ টাকা আর জমি?
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের ঢাকা কেন্দ্রের সমন্বয়ক সালমান খান ইয়াসিন জানান, দুটি সফটওয়ার আর এক্সেল শিটে হিসাব তোলার জন্য দুজন করে চার কর্মী ১২ ঘন্টা করে ২৪ ঘন্টা কাজ করে।
তিনি আরও জানান, পে স্লিপে কম্পিউটারের মতোই ৭০ টাকা থেকে সাত লাখ সব লেনদেনের হিসাব রাখা হয় বছর শেষের অডিটের জন্য।
যেসব ছবি, ভিডিও দেখে হাজার মানুষ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন, সেখানে যে স্বেচ্ছাসেবী ও কর্মী বাহিনীকে দেখা যায় তারাও কাজ করেন ২৪ ঘন্টার যে কোন সময়, যে কোন প্রয়োজনে।
ফেসবুক প্রচারণা, ছবির ব্যবহারে ত্রুটি আছে; যা শোধরাতে চায় বিদ্যানন্দ। তবে জমি থেকে গরু কোনো হিসাব কখনো গোপন করা হয়নি দাবি তাদের।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের হিসাব কর্মকর্তা জানান, এক টাকার আহার, রাস্তার মানুষের ইফতার বা কমিউনিটি সেন্টারে ছিন্নমূলদের রোস্ট বিরিয়ানি খাওয়ানোর স্বপ্নে কোথাও কোনো ভেজাল নেই।
উল্লেখ, বঙ্গবাজার আগুনে পুড়ে যাওয়া পোশাক কিনে তা দিয়ে অলংকার তৈরির কিছু ছবি পোস্ট করে বিতর্কের মুখে পড়ে বিদ্যানন্দ। পরে ভুল ছবি প্রকশের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে সংগঠনটি।
একাত্তর/এআর
