রাজধানীর মতিঝিলে পুলিশ কনস্টেবল বাদল মিয়া হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী রিপন নাথ ঘোষকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। ১০ বছর আগে ২০১৩ সালে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, রিপন কনস্টেবল বাদল মিয়া হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী। ২০১৩ সালে বাদল খুন হওয়ার পর রিপন গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। কিছুদিন পর জামিনে বেরিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
‘তিনি নিজের নাম-পরিচয় গোপন করে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে আত্মগোপন করেন। সেখানে দিনে তিনি বাসচালকের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। আর রাতে মাদক ব্যবসা করতেন। তার কাছ থেকে বেনামে নিবন্ধন করা ৯টি মুঠোফোনের সিম উদ্ধার করা হয়েছে।’
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মতিঝিল থানাধীন টিঅ্যান্ডটি কলোনি এলাকা থেকে পুলিশ অজ্ঞাত পরিচয়ে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার পকেট থেকে পরিচয়পত্র উদ্ধার হয়। সেখানে দেখা যায়, তিনি একজন পুলিশ কনস্টেবল।
এ ঘটনায় মতিঝিল থানার সাব-ইন্সপেক্টর আব্দুল লতিফ মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ৫ এপ্রিল গ্রেপ্তার রিপনকে প্রধান অভিযুক্ত করে মোট পাঁচজনের নামে তদন্তকারী কর্মকর্তা চার্জশিট দাখিল করেন।
বিচারিক কার্যক্রম শেষে আসামিদের নামে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত রিপন নাথ ঘোষসহ মোট পাঁচজনকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত পাঁচ আসামি হলেন রিপন নাথ ঘোষ, বিশ্বজিৎ চন্দ্র দাস, ইব্রাহিম খলিল, রতন চন্দ্র দাস ও হুমায়ূন। তাদের মধ্যে রিপন ও হুমায়ূন পলাতক ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেন আদালত। গতকাল র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন রিপন।
খন্দকার আল মঈন জানান, মাদক বিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার করার জেরেই পুলিশ কন্সটেবলকে হত্যা করে রিপন ও তার সহযোগীরা। ২০১২ সালে মাদক বিরোধী অভিযানে রিপন নাথকে গ্রেপ্তার করে কনস্টেবল বাদল। দুই মাস পর জামিনে এসে বাদলকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ২০১৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভিকটিমকে শাহবাগ থেকে প্রাইভেটকারে তুলে নিয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যার পর লাশ মতিঝিল টিএন্ডটি কলোনি এলাকায় ফেলে পালিয়ে যায় আসামি ও তার সহযোগীরা।
আরও পড়ুন: কিশোরের গলা কেটে হত্যা, দুই রোহিঙ্গা গ্রেপ্তার
এছাড়া গ্রেপ্তার রিপন মতিঝিল এলাকায় চিহ্নিত মাদক চোরাকারবারি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ছিল।
একাত্তর/আরএ
