ব্যাপক উন্নয়ন আর মানুষের জীবনযাত্রার মান বদলে দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে আগামী নির্বাচনে উতরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন কক্সবাজার-১ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। তবে ভোটাররা বলছেন, আওয়ামী লীগকে জিততে হলে প্রথমে দলীয় কোন্দল মেটাতে হবে।
এদিকে, ভোটের মাঠে কাজ করছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি ভারত থেকে না ফিরলে প্রার্থী হবেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। আলাদা প্রার্থী দেয়ার প্রস্তুতি আছে জাতীয় পার্টি এবং জামায়াত নেতাদেরও।
কক্সবাজার-১ আসন চকরিয়া এবং পেকুয়া উপজেলা উপজেলা নিয়ে গঠিত। এটি কক্সবাজার জেলায় অবস্থিত জাতীয় সংসদের ২৯৪নং আসন। এই দুই উপজেলারই অর্থনীতি আবর্তিত হয়েছে লবন ও চিংড়ি চাষ। আছে সামুদ্রিক চ্যানেলে মাছ ধরাও।
তীব্র তাপদাহ। উদয়াস্ত পরিশ্রম। মাঠ থেকে তোলা লবণ নৌকায় তুলে পাঠাতে হবে চট্টগ্রাম কিংবা নারায়নগঞ্জের শোধনাগারে। এক মন তুলতে পারলে মিলবে পাঁচ টাকা। কক্সবাজারে এবার চলতি মৌসুমে গেলো ৬২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লবণ উৎপাদিত হয়েছে।
ছয় মাস লবণ আর ছয় মাস চিংড়ি চাষ। নোনাপানি যেখানে কিছুটা কম সেখানে হয় ধান চাষ। পাশাপাশি নদী বা সাগরের চ্যানেলে মাছ ধরা। এই হলো পেকুয়া উপজেলার মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড। কিন্তু নির্মান ও সংস্কারে অনিয়মে প্রতি বছর ভাঙে উপজেলার বাঁধ আর সুইস গেট।
চকোরিয়া ও পেকুয়া দুই উপজেলার ৫ লাখ ২২ হাজার ৪৬৪ ভোটার নিয়ে কক্সবাজার-১ আসন। পেকুয়ার চেয়ে ভোটার দ্বিগুণ বলে আসনটির জয় পরাজয় মূলত নির্ধারণ হয় চকোরিয়ার ভোটে। উন্নয়নেও পেকুয়ার চেয়ে এগিয়ে চকরিয়া। তাই পেকুয়ায় ক্ষোভ অনেক দিনে।
গেলো মার্চে পেকুয়ায় তৈরি হয় দেশের প্রথম সাবমেরিন ঘাঁটি। আরও হতে যাচ্ছে নৌবাহিনীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, রাস্তাসহ নানা অবকাঠামো। এখানেই হচ্ছে মাতারবাড়ির মেগা প্রকল্পগুলোতে যাওয়ার সংযোগ সড়ক। গড়ে উঠছে দেশের নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল।
তৈরী হচ্ছে নিত্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ। যা স্বপ্ন দেখাচ্ছে পেকুয়াবাসীকে। এই উন্নয়নের শুরুটা এখানে নৌকার প্রার্থী জেতার পর থেকে।
১৯৭৩ সালের পর দীর্ঘ সময় আসনটিতে জয় পায়নি আওয়ামী লীগ। পরপর ৯টি নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী একবার, জাতীয় পার্টি তিন বার আর বিএনপি জয় পায় পাঁচবার। দশম সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মো. ইলিয়াছকে আসনটি ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য জাফর। ফলে ২০১৪ তে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেতে জাতীয় পার্টি।
২০১৮ সালের নির্বাচনে এ ধারা পাল্টান পেকুয়ার জামাই ও চকরিয়ার বাসিন্দা বর্তমান এমপি জাফর আলম। বিএনপির প্রার্থীর চেয়ে পাঁচগুন বেশি ভোটে, দীর্ঘ ৪৫ বছর পর নৌকার জয় ছিনিয়ে আনেন তিনি।
আরও পড়ুন: সব দলেই রয়েছে একাধিক প্রার্থী, আছে কোন্দলও
কিন্তু এখন দুদকে পরিবারসহ তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। দলে সে পুরনোদের বিরুদ্ধাচারণ করায় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভাজন তৈরি, চিংড়ি ঘেরে অবৈধ অস্ত্র, ডাকাতি, পাহাড় কাটা, জলমহাল ও ভূমি দখল, উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতিসহ বর্তমান এমপির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আওয়ামী লীগ ও জোটের মনোনায়ন প্রত্যাশী সবারই।
আওয়ামী লীগের বাকি মনোনায়ন প্রত্যাশীরা জনসংযোগ চালালেও ২০১৪-র মতোই ছাড় পাওয়ার আশায় আছেন জাপার প্রার্থী। তবে, জাতীয় পার্টিকে এবার ছাড় দিলে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হবেন বলে জানান উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদী।
বিএনপিতে অবশ্য বিভাজন কম। ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া তিনবারের নির্বাচিত সালাউদ্দিন আহমদের ফেরার অপেক্ষায় আছে তার দল। বিকল্প প্রার্থী ধরা হচ্ছে ২০০৮ এ নির্বাচিত তার স্ত্রী হাসিনা আহমদকে। তবে দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা, মামলায় কাবু নেতাকর্মীদের নিয়ে দল গুছিয়ে নির্বাচনে জেতা বিএনপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
২০১৮ সালের নির্বাচনে এখানে জামানত হারান বাকি ছয় দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থী। এবার এসব প্রার্থীদের প্রচার এখনও শুরু হয়নি।
একাত্তর/আরবিএস
