পঞ্চগড়ের বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলায় আকস্মিক শিলাবৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে হাজারো মানুষের বসতবাড়ি ও কৃষিজমি। শুক্রবার (২৭ মার্চ) গভীর রাতের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিশেষ করে মরিচ ও ভুট্টার খেত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন এই অঞ্চলের কয়েক হাজার কৃষক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ শুরু হওয়া তীব্র শিলাবৃষ্টিতে বড়ো আকারের শিলার আঘাতে অসংখ্য বসতঘরের টিনের চালা ফুটো হয়ে গেছে। মাঠের পর মাঠ ফসল নষ্ট হওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা। অনেকের ঋণের টাকায় চাষ করা মরিচ গাছ ভেঙে গেছে এবং ভুট্টার গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়ে শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল সাতটায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনে যান পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। ভোরের আলো ফুটতেই তিনি বোদা ও দেবীগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশ দেন। প্রতিমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। সরকার আপনাদের পাশে আছে।
ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক কৃষক জানান, মাত্র কয়েক মিনিটের শিলাবৃষ্টিতে তাদের পুরো মৌসুমের পরিশ্রম ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। সারা বছরের স্বপ্ন মুহূর্তেই ভেঙে পড়ায় এখন তারা চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
ভোরবেলাতেই সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি কৃষকের মাঠে গিয়ে দুর্দশা প্রত্যক্ষ করার বিষয়টিকে স্থানীয়রা ইতিবাচক ও মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। কৃষকেরা আশা করছেন, দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হলে তাঁরা পুনরায় চাষাবাদ শুরু করে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কাজ শুরু করেছে।
