নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ৫৫তম বার্ষিকী উদযাপন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় কাঠমান্ডুর র্যাডিসন হোটেলে এ উপলক্ষে এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেপালের উপরাষ্ট্রপতি রামসহায় প্রসাদ যাদব। এছাড়া নেপালের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রীসহ প্রায় ৩৮০ জন অতিথি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তাদের মধ্যে নেপালে নিযুক্ত ২৫ জন রাষ্ট্রদূত ও আবাসিক মিশনপ্রধানসহ কূটনৈতিক কোরের সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা এবং নেপালে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নৈতিক ও বস্তুগত সহায়তার জন্য নেপাল সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কানেক্টিভিটি, জ্বালানি ও পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেপালের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে বাংলাদেশ সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
রাষ্ট্রদূত নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বাধীন নবগঠিত সরকারকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।
অনুষ্ঠানস্থলে ২০২৭-২৮ মেয়াদে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের প্রার্থিতা তুলে ধরে ব্যানার প্রদর্শন করা হয়। রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে ড. খলিলুর রহমানের প্রোফাইল উপস্থাপন করেন এবং এই পদের জন্য নেপালসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন কামনা করেন।
বক্তব্য শেষে প্রধান অতিথি ও রাষ্ট্রদূত যৌথভাবে কেক কাটেন এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে টোস্ট বিনিময় করেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে উপরাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাষ্ট্রদূতের বিশেষ আলাপচারিতা হয়, যেখানে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন তারা।
ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি ও আন্তর্জাতিক নানা খাবারের সমাহারে নৈশভোজের মাধ্যমে বর্ণিল এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
