ধামাকা অফারে ডাবল ক্যাশব্যাকসহ নানা অসঙ্গতির কারণে বছর খানেক আগেই ইভ্যালির বিরুদ্ধে মামলা করেছিলো বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন।
সংস্থাটি বলছে, সেই সময় দুই কোটি টাকা জরিমানায়ও ক্ষান্ত হয়নি ইভ্যালি। এই অবস্থায়, ই-কমার্স খাতে নৈরাজ্য বন্ধে সব অনলাইন প্রতিষ্ঠানকে ডেকেছে প্রতিযোগিতা কমিশন।
একটি পণ্য কিনলে সর্বোচ্চ ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক। গেল বছরের আগস্টে, ইভ্যালির ওয়েবসাইটে এমন ঘোষণ ছিলো।
বাজারে সুষম প্রতিযোগিতা ভেঙ্গে একচেটিয়া বাজার সৃষ্টি করতে যাচ্ছে ইভ্যালি। এই রকম আশংকা থেকেই বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন সেই সময় ইভ্যালি সর্ম্পকে আদ্যোপান্ত জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে চিঠি দেয়।
এরপর কমিশন দেখে, ইভ্যালি ডট কমের পরিশোধিত মূলধন মাত্র এক কোটি টাকা। যেখানে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক দুই জন, মোহাম্মদ রাসেল ৪০ শতাংশ ও শামীমা নাসরিন ৬০ শতাংশ শেয়ার দখল করে আছে।
একই সঙ্গে সেই সময়েই ৪০৭ কোটি টাকা দায়ের বিপরীতে ইভ্যালির সম্পদ ছিলো মাত্র ৬৫ কোটি টাকা।
এমন প্রতিষ্ঠানের দেয়া লোভের ফাঁদে পড়ে গ্রাহকরা পথে বসবে টের পেয়ে, আগস্টে স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করে প্রতিযোগিতা কমিশন। নেয়া হয় জরিমানাও।
কিন্তু তারপরও অজানা কারনেই ইভ্যালিকে থামানো যায়নি বলে জানিয়েছেন প্রতিযোগিত কমিশনের চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম।
প্রতিযোগিতা কমিশনের মতে, বাংলাদেশে গ্রাহকবান্ধব ব্যবসা না থাকায় বারবারই ঠকে গ্রাহকরা। আবার কম সময়ে বেশি আয় করতে গিয়ে ফাঁদে পড়ে ক্রেতারা।
এতো এতো নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আইন-প্রয়োগকারী সংস্থা থাকার পরও গ্রাহকের এই পরিণতি কেন? এমন এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, শুধু আইন থাকলেই হয় না, প্রয়োজন কঠোর প্রয়োগ।
ই-কর্মাস খাতে নয়-ছয় ঠেকাতে তাই বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডেকেছে প্রতিযোগিতা কমিশন। এ সময় ই-কর্মাস প্রতিষ্ঠানগুলোর বিজনেস মডেল এবং গ্রাহকের স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়গুলো জানতে চাওয়া হবে বৈঠকে।
একাত্তর/এআর
