১৯৯১ থেকে সবগুলো আলোচিত নির্বাচনের মাত্র একটিতে আওয়ামী লীগ হেরেছে শেরপুর-২ আসনে। সেই থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীও একজনই, কেন্দ্রীয় নেত্রী মতিয়া চৌধুরী। এলাকার পরিকল্পিত উন্নয়নগুলোও আসছে তার হাত ধরে। তাই লোকজনও তাকে ভরসা করেন।
এদিকে, তার দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষ জাহেদ আলী চৌধুরীর মৃত্যুর পর নেতৃত্ব শূণ্যতায় ভুগছে স্থানীয় বিএনপি। এ এলাকায় দলটি তিন টুকরো হয়ে আছে। যদিও নেতারা বলছেন, আপাতত লক্ষ্য একদফা। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলেই ভোট নিয়ে ভাববেন তারা।
বছরের পর বছর শত শত একর জমিতে আমন ধান উৎপাদন হলেও পানি সংকটের কারণে বোরো ধানের চাষ করতেন না নকলা ও নালিতাবাড়ি উপজেলার কৃষকরা। তাদের কথা চিন্তা করে এখানে নির্মাণ করা হয় রাবার ড্যাম। এতেই শত শত অনাবাদি জমিতে এখন অনায়াসে বোরো ধান উৎপাদন হচ্ছে ।
আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবেও পরিচিত। ১৯৯১ সাল থেকে এ পর্যন্ত পাঁচবার এই আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ‘অগ্নিকন্যা’ বেগম মতিয়া চৌধুরী। ভোটাররা জানান, উন্নয়নের পাশাপাশি, তিনি এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। বদলে দিয়েছের এলাকার কৃষি।
এবারও এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন মতিয়া চৌধুরী। তিনি ছাড়াও এবার এখান থেকে নৌকার টিকেটে নির্বাচন করার আগ্রহ জানিয়েছেন নৌ-মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব আব্দুস সামাদ ফারুক এবং বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোকছেদুর রহমান লেবু।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম মোস্তফা জানান, দলের মধ্যে কোন ধরনের কোন্দল নেই, তৃণমূলের সবাই আসলে নৌকার পক্ষেই কাজ করবেন। কেন্দ্র থেকে যাকেই মনোনয়ন দেয়া হোক না কেন, সবাই নৌকার পক্ষেই কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।
ফলে নকলা ও নালিতাবাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ অনেকটাই নির্ভার। সংসদের গুরুত্বপূর্ণ আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবেই পরিচিত। আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দল নিরসন করে গত বছরের নভেম্বরে এই আসনের দুই উপজেলাতেই সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠিত হয়। এতে মতিয়া চৌধুরীর ওপর আস্থা রেখে দুই উপজেলাতেই পদ পেতে প্রার্থী হননি কেউ।
আলোচিত নির্বাচনগুলোর মধ্যে বারবার নির্বাচন করলেও, শুধু একবার জিতেছেন বিএনপির জাহেদ আলী চৌধুরী। তার মৃত্যর পর এলাকায় তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে যে কোন দলীয় কর্মসূচি করে বিএনপি। যদিও সে কথা স্বীকার করেন না বিবিএনপি নেতারা। তারা বলেন, এখন লক্ষ্য আন্দোলন চাঙ্গা করা।
শেষ পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনে এলে মনোনয়ন চাইতে পারেন সাবেক জাহেদ আলী চৌধুরীর ছেলে ফাহিম চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ইলিয়াস খান এবং শহর বিএনপির আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন। জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত আব্দুস সালামের ছেলে শওকত সাঈদ মনোনয়নপ্রত্যাশী।
এ আসনে অনেকটাই স্তিমিত জাতীয় পার্টির রাজনীতি। এর মধ্যেও অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হতে পারেন বলে শোনা যায়। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে ইতিমধ্যেই দু’জনের নাম উঠে এসেছে। তারা হলেন- মাওলানা আবু বক্কর ও আবদুল্লাহ আল কায়েশ।
এছাড়াও এখানে আলাদা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জাসদ এবং জামায়াতে ইসলামী। ভোটাররা জানান, এই আসনে উন্নয়ন আর সাংগঠনিক দিক দিয়ে আওয়ামী লীগ যতটা গোছালো, বিএনপি ততটা নয়। বিএনপি নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব আর নানামুখী গ্রুপিংয়ে বিভক্ত। ফলে এই আসনে নির্ভার আওয়ামী লীগ।
শেরপুর-১: আত্মবিশ্বাসী আওয়ামী লীগ, মরিয়া বিএনপি