রাঙ্গামাটিতে বড় দুই দলেরই চ্যালেঞ্জ আঞ্চলিক দল

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৩, ০৯:১৪ পিএম

রাঙ্গামাটির পাহাড় এখন অনেকটা শান্ত হয়ে আসলেও নির্বাচন যত কাছে আসছে ততই পাহাড়ি-বাঙালি ইস্যু জোরালো হচ্ছে। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে এই ভাবনার প্রভাব রয়েছে। কারণ সবাই চাইছেন পাহাড়ি সমর্থন। এরই মধ্যে পাহাড়িদের সংগঠনগুলোও সক্রিয় হয়ে উঠছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে জনসংহতি সমিতির প্রার্থী হারিয়ে দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে।

আয়তনে দেশের সবচেয়ে বড় জেলা হলেও এখানে নির্বাচনী আসন একটি। নির্বাচনে সারাদেশে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর আধিপত্য থাকলেও রাঙ্গামাটিতে বরাবরই ‘ভোট ফ্যাক্ট’ আঞ্চলিক দল। আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সমর্থনেই পাল্টে যায় ভোটের হিসাবনিকাশ।

এখনও ভোটের উত্তাপ না ছড়ালেও দলগুলো নিজেদের গোছানোর পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে ভাবছে। তবে টানা ছয় বার জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী থাকলেও এবারই পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে, অন্যান্য দলেও মনোনয়নে আগ্রহী একাধিক প্রার্থী রয়েছে।

রাঙ্গামাটিতে বড় দুই দলেরই চ্যালেঞ্জ আঞ্চলিক দল

সাধারণ ভোটাররা জানান, নির্বাচনে প্রকাশ্য আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং জামায়াতে ইসলামী অংশ নিলেও এখানে এখনও ভোটের মূল ফ্যাক্টর পাহাড়ি-বাঙালি ইস্যু। সাধারণত পাহাড়িদের সংগঠনগুলো নির্বাচনে অংশ না নিলেও ২০১৪ সালের নির্বাচনে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতা উষাতন তালুকদার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করে হারিয়ে দেন নৌকার প্রার্থী দীপংকর তালুকদারকে।

২০১৮ সালে এখানে আবারও জয়ী হন দীপংকর তালুকদার। আসছে নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, সমতল ও পাহাড়ের রাজনীতির মধ্যে রাত ও দিনের পার্থক্য । এখানে নিবন্ধিত দলগুলোকে সশস্ত্র আঞ্চলিক দলকে সামলে রাজনীতি করতে হয়। তারা নির্বাচনের চিত্র বদলে দিতে পারে।

ভোটাররা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি সঙ্গে বর্তমান সংসদ সদস্যের কখনই সম্পর্ক ভাল ছিল না। তিনি প্রার্থী হলে পাহাড়িদের ভোট ভাগ করার জন্যে আবারও প্রার্থী দেবে জেএসএস। ভোটারদের এই তথ্য স্বীকার করেই দীপংকর বলেন পাহাড়ের অবকাঠামো, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। কারা বিরোধিতা করলো সেটা আমলে নেয়ার সুযোগ নেই। দল চাইলে তিনি আবারো নির্বাচন করতে চান। এই আসনে আওয়ামী লীগের আরও দু;জন আগ্রহী প্রার্থী রয়েছে।

সবশেষ ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনকে নিজের ‘শেষ নির্বাচন’ হিসেবে মাঠে নামেন দীপংকর। এ নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন জেএসএস’র সহ-সভাপতি ঊষাতন তালুকদার ও বিএনপির মনিস্বপন দেওয়ান। ভোটে ঊষাতন-মনিস্বপনকে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো এমপি হন দীপংকর।

সেবার ‘শেষ নির্বাচন’ ঘোষণা দিলেও দ্বাদশেও লড়াতে চান দীপংকর। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তার প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন অনুসারীরা। এদিকে, এবারের নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চাইতে পারেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা।

রাঙ্গামাটিতে বড় দুই দলেরই চ্যালেঞ্জ আঞ্চলিক দল

জেলায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এতদিন দীপংকর তালুকদারের একক নিয়ন্ত্রণ থাকলেও সর্বশেষ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি পদ নিয়ে নিখিলের সঙ্গে রাজনৈতিক বৈরিতার বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। যদিও সেই সম্মেলনে দীপংকর আবারও সভাপতি হন।

এদিকে, বিএনপি থেকে নির্বাচন করতে চান দীপেন দেওয়ান, মনি স্বপন দেওয়ান ও কর্নেল মনিষ দেওয়ান।  নেতারা জানান, মনোনয়ন নিয়ে তাদের কোন্দল নেই প্রতিযোগিতা রয়েছে। দল চাইলে তারা সবাই ধানের শীষের পক্ষে কাজ করবেন। জেলার ১০ উপজেলাতেই তাদের নির্বাচনী কার্যক্রম রয়েছে।

দলটির নেতা-কর্মীরা বলছে, নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী লড়তে হলে এবং নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে সাবেক উপমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ানের বিকল্প নেই। রাঙ্গামাটি ‘পাহাড়ি অধ্যুষিত’ এলাকা হিসেবে স্থানীয় কমিউনিটির ভোট নিজেদের ঝুলিতে ভরতে মনিস্বপনের বিকল্প দেখছেন না তারা।

তবে প্রার্থিতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার বলেন, আমরা এক দফা দাবিতে সারাদেশে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। সেন্ট্রালের কড়া অর্ডার আছে, আন্দোলন-সংগ্রামের পরই নির্বাচনের প্রার্থী নিয়ে চিন্তা-ভাবনা শুরু হবে। আপাতত প্রার্থিতা নিয়ে কোনো আলোচনা নেই।

স্থানীয় রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের সংসদ নির্বাচনেও বড় ফ্যাক্ট হয়ে দাঁড়াবে আঞ্চলিক দল। তবে বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশ নেয় সেক্ষেত্রে ফলাফল নিয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। সবশেষ ২০১৮ সালে ভোটের মাঠে জেএসএস-ইউপিডিএফ এক থাকলেও, এবার চিত্র ভিন্ন।

গেলবার ‘রাজনৈতিক সমঝোতা’ থাকায় রাঙ্গামাটি আসনে একত্রে ভোট করেছিল দুটি আঞ্চলিক দলই। তবে বর্তমানে ফের জেএসএস-ইউপিডিএফের রাজনৈতিক বৈরিতা চলছে। যে কারণে এবারের নির্বাচনে একক প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে ইউপিডিএফ বলছে, রাজনৈতিক দল হিসাবে তারা বরাবরই গণতন্ত্রমুখী।

রাঙ্গামাটিতে বড় দুই দলেরই চ্যালেঞ্জ আঞ্চলিক দল

এদিকে, একাদশ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির কে এম পারভেজ তালুকদার, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জুঁই চাকমা ও ইসলামী আন্দোলনের জসিম উদ্দিন প্রার্থী হন। আসন্ন নির্বাচনে এসব রাজনৈতিক দলের প্রার্থী নিয়ে এখনও কোনো আলোচনা নেই। আলোচনা নেই বাঙালিভিত্তিক সংগঠনের প্রার্থী নিয়েও।

সাধারণ মানুষের দাবি, একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। তারা চান, সবসময় পর্যটকে মুখর থাক ঝুলন্ত ব্রিজ, শুভলং ঝর্ণা, পলওয়েল,আরণ্যক পার্ক এবং রাঙ্গামাটি লেকসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকা।  এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭৩ হাজার ৩৬১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯৭১ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৮ জন। তবে এবার রাঙ্গামাটিতে দু’জন হিজড়া ভোটার রয়েছেন।

 

একাত্তর/আরএ

২০২৭ সালের জন্য বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের তিনটি আলাদা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। এতে সর্বোচ্চ প্যাকেজ খরচ প্রায় আট লাখ টাকা এবং সর্বনিম্ন প্যাকেজ খরচ পাঁচ লাখ...
বিএনপি উন্নয়নের কথা বলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে এবং সংস্কারের কথা শুনলেই দলটির ‘গায়ে আগুন লেগে যায়’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা। 
ভারতের জাতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নিট-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে উত্তাল আন্দোলনের মধ্যে অনশনরত বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে হাসপাতালে বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা।...
দেশের টেক্সটাইল বা বস্ত্র খাতের বিদ্যমান নানা সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষে অর্থ উপদেষ্টা ও বাণিজ্যমন্ত্রীর সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর