চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন আগামী সাত জানুয়ারির ভোটের তফসিল বাতিলের দাবি জানিয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক অনুষ্ঠানে ‘বিদ্যমান সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দল, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের সাথে জাতীয় সংলাপ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
জাতীয় সংলাপে ইসলামপন্থীদের সাথে এক টেবিলে দেখা গেছে বাম রাজনৈতিক দলের নেতাদের। আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায়ের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন তারা।
এই সংলাপে যোগ দেন বিএনপি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, গণফোরাম, জেএসডি, গণতন্ত্র মঞ্চ ও নাগরিক ঐক্যের নেতারা।
তাদের দাবি, আওয়ামী লীগ আরও একটি একতরফা নির্বাচন করতে যাচ্ছে। যা দেশকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে।
সংলাপের শুরুতে তিন দফা দাবি সংবলিত একটি লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম। সেই দাবিতে ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে’ তিনটি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
প্রস্তাবগুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো, ‘বিতর্কিত নির্বাচন কমিশন ঘোষিত একতরফা’ তফসিল বাতিল করে গ্রেপ্তার বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মুক্তি দিয়ে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করা।
দ্বিতীয়টি প্রস্তাব, বর্তমান সংসদ ভেঙে দিয়ে জাতীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের নির্বাচন। আর তৃতীয় প্রস্তাব, কার্যকরী সংসদ, রাজনৈতিক সংহতি এবং শতভাগ জনমতের প্রতিফলনের জন্য সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির নির্বাচন।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, একতরফা নির্বাচন নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে বিরোধী মতকে স্তব্ধ করার জন্য বিভিন্নমুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত সরকার। বাংলাদেশের বিরোধী দল নির্বাচনের আগে চরম দমন-পীড়নের মুখোমুখি হয়েছে বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, শত শত মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা, গায়েবি মামলা ও বিরোধী দলের মৃত ব্যক্তির নামে কারাদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। জেলখানার ধারণ ক্ষমতার তিন গুন আসামি কারাগারে বন্দী। এটি সম্পূর্ণ মানবতা বিরোধী, অমানবিক ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ।
ইসলামী আন্দোলনের বক্তব্য, সরকারের ছত্রচ্ছায়ায় দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি যা মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। দুস্থ মানুষের মাঝে হাহাকার বিরাজ করছে। অধিকাংশ মানুষ পুষ্টিহীনতায় ভুগছে।
প্রকাশ্যে বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান
২৮ অক্টোবরের পর বিএনপির বেশিরভাগ নেতা আত্মগোপনে। তবে সংলাপে দেখা গেলো বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে। তিনি বলেছেন, আন্দোলনেই চূড়ান্ত ফয়সালা।
তিনি বলেন, এ সরকারবিরোধী আন্দোলন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, একটা ফ্যাসিস্ট শাসক থেকে মুক্ত হওয়ার যে লড়াই, সে লড়াইয়ে যুক্ত হতে যাদের বয়স আছে, যাদের সুযোগ আছে, যাদের সক্ষমতা আছে, তারা যদি যুক্ত না হয়, তাহলে একসময় আক্ষেপ করতে হবে ‘
আজকের জাতীয় সংলাপ বহুবছর স্মরণে থাকবে। কোনো বিশিষ্ট আলেম রাজনৈতিক বিষয়ে এরকম কোনো সংলাপের আয়োজন করে বলে মনে পড়ে না। আমরা যারা একসঙ্গে রাজপথে আন্দোলনে আছি। তাদের অনেকেই আসছি। অনেকেই আসেননি। তবে আমরা বিরোধীরা সবাই এখানে আছি। ডান, বাম সবাই।
সরকারকে ধন্যবাদ দিয়ে তিনি বলেন, সরকারের অত্যাচার জুলুমের কারণে আজকে আমরা সবাই নিপীড়িত, মজলুম। যেকারণে আজকে আমরা এককাতারে, ঐক্যবদ্ধ। আজকের ঐক্য নিপীড়িতদের। তবে চরমোনাইকে উপস্থিত সবার আকাঙ্ক্ষা পূরণে উদ্যোগী হতে হবে।
সংসদ বাতিল করে নির্বাচন দেওয়া প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম বলেন, এখনো যদি আজকের প্রধানমন্ত্রী ২৭ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতিকে বলেন, আপনি সংসদ বাতিল করেন। নতুন নির্বাচন দেন। জানুয়ারির ২৯ তারিখের আগে যদি সংসদ ভেঙে দেওয়া হয় তাহলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করা যাবে। এতে কোনো বাধা নেই। সময় আছে তো, সময় নেই এটা তো ঠিক নয়।
সংলাপে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, এবি পার্টির সদস্য সচিব মুজিবুর রহমান মঞ্জু, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, গোলাম মাওলা রনি, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুম, গণঅধিকার পরিষদের একাংশের যুগ্ম-আহ্বায়ক কর্নেল (অব.) মিয়া মশিউজ্জামান, বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহ-সভাপতি রাশেদ পলাশ, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর, সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুমদার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন, সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, দলের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম চরমোনাই, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দার।
